kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

সড়ক পরিবহন আইনের প্রতিবাদ

খুলনা ও নড়াইলের সব রুটে বাস বন্ধ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুলনা ও নড়াইলের সব রুটে বাস বন্ধ

খুলনা ও নড়াইল থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নের প্রতিবাদে আজ  সোমবার (১৮ নভেম্বর) সকালে এ ধর্মঘট শুরু হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

নতুন পরিবহন আইনের ভয়ে স্বেচ্ছায় অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চালানো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাসচালক ও শ্রমিকরা। তাঁরা বলছেন, দুর্ঘটনার মামলা জামিনযোগ্যসহ সড়ক আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন চান চালকরা। আইন সংশোধনের পরই এটি কার্যকর করা হোক। এটি না করা পর্যন্ত তাঁদের এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান তাঁরা।

মালিক ও শ্রমিকরা বলেন, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আইনটি সংশোধন ছাড়াই বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে খুলনায় সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

খুলনা শ্রমিক ফেডারেশন সূত্র জানায়, আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর শ্রমিক ফেডারেশন এ বিষয়ে বর্ধিত সভা ডেকেছে। সভার এজেন্ডাগুলোর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে সড়ক পরিবহন আইন সম্পর্কে আলোচনা। ওই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

গত বছর ঢাকায় বাসচাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে আগের আইন কঠোর করে এই আইন করা হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত মাসে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে “সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-র ধারা ১ এর উপ-ধারা (২) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ১ নভেম্বর আইন কার্যকরের দিন ধার্য করে। গত বছরের ৮ অক্টোবরে আইনটির গেজেট জারি করা হলেও তার কার্যকারিতা ঝুলে থাকায় এ নিয়ে আদালতে রিট আবেদনও হয়।

এই আইন অনুযায়ী, মোটরযান চালনাজনিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর আহত বা নিহত হলে এ সংক্রান্ত অপরাধ দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর এ সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

তবে দণ্ডবিধির ৩০৪-বি ধারাতে যাই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তির বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত কোনো দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হলে চালক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

আইনের ১১৪ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল ইত্যাদির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি (১৮৯৮) প্রযোজ্য হবে।আইনটি প্রণয়নের পর থেকে এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছিল পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। তাঁদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনার মামলায় নতুন আইনে শাস্তির মাত্রা অনেক  বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা