kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

দ্বিতীয় স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দ্বিতীয় স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার অভিযোগ

রাজধানীর আদাবর এলাকায় নিজ বাসা থেকে নাছিমা (৩৬) নামে এক নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সন্তানদের দাবি মায়ের দ্বিতীয় স্বামী ডাব্লিউ হাওলাদার রানা (৩৮) নাছিমাকে হত্যা করেছে। আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আদাবর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, মৃত নাছিমার দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন রানা। তার আগের স্বামী ১০ বছর আগে মারা যায়। পরে সাত বছর আগে রানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতন করতো বলে জানা গেছে। এই ঘরে মরিয়ম (৪) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নাছিমার আগের ঘরের দুই সন্তান আক্তার হোসেন (১৮) ও আলামিন (৯) এক সঙ্গে থাকতেন। রানার সাভারে আরেক সংসার রয়েছে। সেখানে তার ৪টি মেয়ে রয়েছে। দুই পরিবারেই কোন টাকা দিতেন না রানা। কিন্তু নেশার টাকার জন্য নাছিমাকে মারধর করতেন।

পুলিশ জানায়, রবিবার সকালে আদাবর ১০ নম্বরের ৭১২/১৯ এর ৫৩ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষে তার লাশ পাওয়া যায়। ওই রাতে আলামিন ও মরিয়মকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন নাছিমা। নিহতের গ্রামের বাড়ি বরিশাল। তার স্বামী রানার গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জের কলাবুনিয়ায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধারের সময় নিহতের ডান কান ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিলো। গলায় রক্তের দাগ ছিলো, মাথার কিছু অংশের চুল ছেড়া পাওয়া যায়। বুকে কাটা দাগ এবং বাম হাতে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সঙ্গে থাকা সন্তানেরা মায়ের এমন অবস্থা দেখে কান্নাকাটি করলে প্রতিবেশিরা আসে। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হয়। রাতে স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়ার আওয়াজ শোনার কথা জানায় প্রতিবেশীরা। সকালে সবার অগোচরে সে পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আদাবর থানার এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাবীবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, রাত সোয়া ১২ থেকে সন্ধা সাড়ে ৭টার মধ্যে হত্যার ঘটনাটি ঘটতে পারে। সকালে খবর পেয়ে আমরা গিয়ে মুখের উপর বালিশ চাপা দেওয়া অবস্থায় পাই এবং তার মুখ ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিলো। তার স্বামী রানাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এসআই আরও বলেন, নিহত নারীর আগে একটা বিয়ে হয়েছিলো। সে স্বামী মারা যাওয়ার পর সাত বছর আগে রানাকে বিয়ে করে। নিহত নারী বার্বুচির কাজ করতো সেই সঙ্গে একই যায়গায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজও করতো। তার দ্বিতীয় স্বামী শেকেরটেক এলাকায় দরজির কাজ করতো। তারা তিন মাস আগে আদাবরের এই বাসায় থাকতে শুরু করেন।

নাছিমার আগের ঘরের ছেলে আক্তার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই লোক (রানা) মা, আর আমার ছোট ভাই আলামীন আর মরিয়ম (সত্ বোন) ওই বাসায় থাকতো। আমি থাকতাম না। ওই লোক (রানা) আমার মারে সব সময় অত্যাচার করতো। নিজে কিছু করতো না। মায়ের কষ্টের টাকায় নেশা করতো। আশপাশের মাইনশে কইলো গত রাতে (শনিবার দিবাগত রাত) বাসায় হইচই শুনছে। মনে হয় টাকা না দেওনে মারে রাইতে মাইরা ফেলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা