kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

আবরার হত্যায় মূল উস্কানি দিয়েছিলো রুমমেট মিজান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আবরার হত্যায় মূল উস্কানি দিয়েছিলো রুমমেট মিজান

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যায় উস্কে দিয়েছিলো তার রুমমেট মিজানুর। আবরার শিবির করে এমন সন্দেহের কথা অন্য আসামিদের জানায় মিজান। তৈরি করে হত্যার প্রেক্ষাপট। আদালতে জমা দেয়া পুলিশের চার্জশিটে উঠে এসেছে এই তথ্য। 

মিজানের উস্কানির পরই ঘটনার দুই দিন আগে হলের গেস্টরুমে বৈঠক করে আসামিরা। অথচ মামলার এজাহারেই ছিলো না মিজানের নাম। পুলিশ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণে আট আসামির স্বীকারোক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার চার্জশিটে আবরারের রুমমেট মিজানুরকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মিজানুরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন এই বিষয়টি শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নিজস্ব ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানান। 

এরই প্রেক্ষিতে ৫ অক্টোবর শেরে বাংলা হলের গেস্টরুমে সভা করা হয়, পিটিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরদিন দিবাগত রাতে আবরারকে হত্যা করা হয়। আবরারকে পেটানো শুরু করেন মেহেদী হাসান ওরফে রবিন। দুই দফায় আবরারকে পেটান অনিক সরকার। দ্রুত লাশ সরিয়ে ফেলতে চাপ সৃষ্টি করেন মেহেদী হাসান ওরফে রাসেল।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্রিকেট স্ট্যাম্প, মোটা দড়ি দিয়ে নির্যাতন করার একপর্যায়ে আবরার ফাহাদ বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। এরপর তাকে হলের বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। বদলানো হয় তাঁর জামা-কাপড়।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, মিজানের দেওয়া আবরারের বিরুদ্ধে শিবির করার ‘তথ্যের’ ভিত্তিতে তাকে নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পরে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান ওরফে রাসেলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৩ নভেম্বর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ২৫ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। প্রথমে এজাহারে রুমমেট মিজানুরের নাম না থাকলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে তার উস্কানির বিষয়টি।

ডিএমপির ডেপুটি কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখি এজাহারের মধ্যে যাদের নাম ছিলো, এছাড়া এজাহার বহির্ভূত বেশ কয়েকজন এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো। তাদেরকেও আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। আমরা আশা করছি খুব দ্রুত এই হত্যার বিচার কাজ সম্পন্ন হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, যারা সম্ভাব্য অপরাধী তাদের কাছে এটি একটি মেসেজ হিসেবে কাজ করবে। সামাজিক, রাজনীতি, ধর্মীয় অবস্থান যার যেটিই হোক না কেনো আইন অমান্য করলে তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে।

আবরার থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ১০১১ নম্বর কক্ষে। এটি হলের নিচতলায় অবস্থিত। একই কক্ষে থাকতেন ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমানের নাম মামলার এজাহারে ছিল না। তদন্তে জানা যায়, আবরার হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও সূচনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে মিজানুর রহমান। গত ৪ অক্টোবরের আগে যে কোনো সময় মিজানুর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে বলেন, ‘আবরারকে তাঁর শিবির বলে সন্দেহ হয়।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা