kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

তথাকথিত ‘ইসলামী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত হচ্ছিল ৬ জঙ্গি

র‌্যাবের দুই টিমের অভিযান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তথাকথিত ‘ইসলামী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত হচ্ছিল ৬ জঙ্গি

ছবি- র‌্যাব

রাজধানীর উত্তরা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানা এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের ছয়জন সদস্য গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। এ সময় উগ্রবাদী বই, লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

গতকাল শুক্রবার বিকাল থেকে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত র‌্যাব-৪ এর দুটি আভিযানিক দল অভিযান পরিচালনা করে রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানা এলাকা হতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর ছয় সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, দেশে ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত হচ্ছিল তারা। দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় তারা বিশ্বাস করে না এবং উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে শত্রুর ওপর তারা আকস্মিক আক্রমণ করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে।

সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর কর্মপরিকল্পনা ও অপতৎপরতা সম্পর্কে গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানিয়েছে। সেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই ছয় জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম এর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ হতে আনসার আল ইসলাম এর বিভিন্ন ধরনের উগ্রবাদী সম্পর্কিত বই, লিফলেটসহ উগ্রবাদী ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. শফিকুল ইসলাম সাংগঠনিক নাম সাগর ওরফে সালমান মোক্তাদির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে সে বর্তমানে ডিপলোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পঞ্চম বর্ষের ছাত্র। সে ইলিয়াস হাওলাদার নামক এক ব্যক্তির সাথে অ্যাপসের মাধ্যমে আনসার আল ইসলাম দল সম্পর্কে প্রথম জানতে পারে এবং তাদের কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে এ দলে যোগদান করে। এরপর সে প্রায় দুই বছর ধরে সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত রয়েছে। পরবর্তীতে সে আনসার আল ইসলামের শীর্ষ নেতার সাথে অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিল।

অপর জঙ্গি মো. ইলিয়াস হাওলাদার (সাংগঠনিক নাম খাত্তাব) র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, অনলাইনে সে খাত্তাব ছদ্মনাম ব্যবহার করে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। বর্তমানে গাড়িচালক ইলিয়াস ছাত্রজীবনে হরকাতুল জিহাদের সাথে যুক্ত ছিল। পরে হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ হলে সক্রিয়তা কমিয়ে দিলেও সে সশস্ত্র উগ্রবাদে আগ্রহী ছিল। পরে আনসার আল-ইসলামের দাওয়াতে সংগঠনটিতে যোগ দেয়। সে প্রায় তিন বৎসর যাবত এই সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে। সে শীর্ষ জঙ্গিদের মধ্যে একজন, মোবাইল থেকে বিভিন্ন উগ্রবাদি ডিজিটাল কন্টেন্ট পেয়েছে র‌্যাব।

অপর জঙ্গি মো. ইকরামুল ইসলামের সাংগঠনিক নাম মুত্তাকিন ওরফে আমীর হামজা ওরফে সালাউদ্দিন আইয়ুবী। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানাধীন সুন্দরবন সংলগ্ন চকবারা এলাকায়।

গ্রেপ্তারকৃত অপর জঙ্গির নাম আমীর হোসাইন হলেও তার সাংগঠনিক নাম সুলতান মাহমুদ ওরফে রাজা। বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানাধীন এলাকার বাসিন্দা আমীর স্থানীয় একটি মাদ্রাসা হইতে হাফেজি সম্পন্ন করে।

এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত শিপন মীরের সাংগঠনিক নাম আব্দুর রউফ,  মো. ওয়ালি উল্লাহর সাংগঠনিক নাম আব্দুর রহমান। তিনি বর্তমানে তাহফিজুল কুরআন/দারুল কুরআন ওয়াজ সুন্নাহ্ হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার বিপক্ষে। তাদের মতে এই ব্যবস্থা তাগুতি বা বাতিল। এ কারণে তারা কথিত ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চায়। সেই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা কারীদের উপর তারা আকস্মিক আক্রমন করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করে থাকে। তাদের আকস্মিক আক্রমনের পরিকল্পনাকে তারা তাদের সংগঠনের ভাষায় একাকী নেকড়ের আক্রমণ (Lone-wolf attack) বলে থাকে। এক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে চাপাতি ব্যবহার করে তারা।

র‌্যাব জানিয়েছে জঙ্গি তৎপরতা, প্রশিক্ষণ ও করনীয় সম্পর্কে তারা নিজেদের মধ্যে অনলাইনে যোগাযোগ করে। তবে কোনো নাশকতার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষন, গোপনীয় তথ্য সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহনের ক্ষেত্রে সরাসরিও সাক্ষাৎ করে থাকে।

সম্প্রতি একটি পরিকল্পনা জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা উত্তরা এলাকায় তাদের পূর্ব নির্ধারিত স্থানে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই তথ্য জানতে পেরে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে উত্তরা, গাজীপুর ও সাতক্ষীরা হতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব। এ সময় তাদের দলের আরো বেশ কয়েকজন পালিয়ে যায়। পলাতক জঙ্গিদের সমন্ধে তথ্য সংগ্রহ পূর্বক গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা