kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

এক মাস অনশনেও ব্যর্থ, অভিমানে চাঁদের কণা নিভে যেতেই চান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এক মাস অনশনেও ব্যর্থ, অভিমানে চাঁদের কণা নিভে যেতেই চান

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবন্ধী চাঁদের কণা গত প্রায় এক মাস ধরে অনশন করছেন। একটি সরকারি চাকরির আশাতেই তাঁর এই অনশন।

গত কয়েকদিন ধরে কিছুই খাননি তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। আজও শরীর খুব খারাপ বলেই কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন তিনি।

কিছুদিন আগেই তিনি সরকারি চাকরির একটি আশ্বাস পেয়েছিলেন। তবে আশ্বাস মিললেও মেলেনি যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি। তাই বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় দফায় আমরণ অনশনে বসেছেন তিনি।

ইডেন মহিলা কলেজ থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে মাস্টার্স শেষ করেছেন চাঁদের কণা। স্নাতকোত্তর পাসের পর অনেক চেষ্টা করেও চাকরি না পাওয়ায় গত জুনের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনশন শুরু করেছিলেন তিনি। তিন দিন পর চাকরির আশ্বাস পেয়ে অনশন ভেঙে তিনি বাড়ি ফিরে যান। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া তাকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

প্রেসক্লাবের সামনে থেকে কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, ‘অনশনের প্রায় এক মাস হলেও এখনো কোনো কাজ হয়নি। এখন মরা ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছি না।’

যোগ্যতা অনুযায়ী একটি সরকারি চাকরি চেয়েও শেষ পর্যন্ত তা না পেয়ে দ্বিতীয়বারের মত অনশনে বসেছেন সিরাজগঞ্জের প্রতিবন্ধী এই তরুণী।

গত ১৬ অক্টোবর থেকে তিনি ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন করছেন তিনি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত শারীরিক প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট মৈত্রী শিল্পের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে অস্থায়ী নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল চাঁদের কণাকে। হাজিরার ভিত্তিতে দৈনিক মজুরি ধরা হয়েছিল ৫৬০ টাকা।  কিন্তু সে চাকরিতে সন্তুষ্ট না হয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী একটা চাকরির জন্য ফের নতুন করে অনশন শুরু করেছেন তিনি।

রাজশাহীর মাদারবক্স গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে স্নাতক (সম্মান) পাস করে ২০১৩ সালে ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর পাস করেন এই তরুণী। তিনি যখন অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী, তখন তার মা মারা যান। কয়েক বছর পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা।

চাঁদের কণার ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছেন, আরেকজন এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও চাঁদের কণা থেমে থাকেননি। টেলিভিশনের জন্য অনুষ্ঠান গ্রন্থনা এবং কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে জীবিকা চালিয়ে গেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা