kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

পরপর তিনটি সিগনাল অমান্য করে ‘তূর্ণা নিশীথা’

‘ট্রেন অটো ব্রেকে রেখে চালকরা হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরপর তিনটি সিগনাল অমান্য করে ‘তূর্ণা নিশীথা’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য ‘তূর্ণা নিশীথা’ ট্রেনের চালকরাই দায়ী বলে ধারণা করা হচ্ছে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়াদের বরাত দিয়ে জানান, দুর্ঘটনার সময় ‘তূর্ণা নিশীথা’ ছিল অটো ব্রেকে। মূলত কম বিরতির ট্রেন হওয়ায় অটো ব্রেকে রেখেই লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। তূর্ণাকে আউটারে থাকতে তিনটি সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল মন্দবাগ রেল স্টেশন থেকে। দুইজন চালক একটি সিগন্যালও কেন দেখলো না? এর বাইরে আউটার, হোম, স্টার্টারসহ বেশ কিছু কারিগরি প্রক্রিয়া আছে। এসবের কোনোটাতেই তূর্ণা নিশীথার চালকরা সারা দেয়নি। প্রায় ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে উদয়ন এক্সপ্রেসকে আঘাত করে তূর্ণা নিশীথা।

তিনি আরও বলেন, ‘তূর্ণা নিশীথা আর দুই মিনিট পরে আসলেও এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। কারণ, দুর্ঘটনার আগেই উদয়ন এক্সপ্রেসের ৯টি বগি স্টেশনে ঢুকে পড়েছিল। বাকি ৩টি বগিকে ধাক্কা দেয় তূর্ণা।’

কুমিল্লা থেকে আখাউড়া রেললাইনটি সিঙ্গেল হওয়ায় সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে ‘উদয়ন’ ট্রেনকে স্টেশনে অপেক্ষায় রেখে ‘তূর্ণা নিশীথা’কে যেতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আরও সিদ্ধান্ত ছিল ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ স্টেশনে প্রবেশের আগ পর্যন্ত মন্দবাগ স্টেশনের আউটারে থাকবে ‘তূর্ণা-নিশীথা’। তবে সেই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেয়া তিনটি সিগন্যাল অমান্য করে ৬০-৭০ কিলোমিটার বেগে উদয়নে আঘাত করে তূর্ণা-নিশীথা।

মন্দবাগ রেল স্টেশনে সোমবার দিনগত রাত ৩টায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনের কথা জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমকে এমন তথ্য  জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহান।

তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তূর্ণা নিশীথা’র চালক ও তার সহকারীর দায়িত্বহীনতার কারণে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ঘটনার পর থেকে তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আব্দুর রহমান পলাতক আছেন। ইতোমধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের উপপরিচালক (জনসংযোগ) তৌষিয়া আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার সিগন্যাল ভঙ্গ করে উদয়নকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তূর্ণা নিশীথার লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও ওয়ার্কিং গার্ড আব্দুর রহমানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপরদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি রেলপথ পরিদর্শক নিজে পরিদর্শন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবেন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত সচিব (আইন ও ভূমি) মো. রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সংকেত ও টেলিযোগাযোগ কর্মকর্তা আবুল কালাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের যুগ্ম মহাপরিচালক (অপারেশন) রাশিদা সুলতানা গনি, বাংলাদেশ রেলওয়ের সদস্য ও উপসচিব রেলপথ মন্ত্রণালয় মীর আলমগীর হোসেন। এ কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই লাকসাম ও আখাউড়া থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে। উদয়ন এক্সপ্রেস সামনের অক্ষত ৯টি বগি নিয়ে বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম পৌঁছায়। আর মূল লাইন মেরামত শেষে বেলা পৌনে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ‘তূর্ণা নিশীথা’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা