kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

কলকাতায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অতঃপর...

অনিতা চৌধুরী, কলকাতা থেকে   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলকাতায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, অতঃপর...

ব্যবসার কাজে কলকাতায় গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ী বশির মিয়া। সেখানে গিয়ে সর্বস্ব খোয়ালেন তিনি। তাকে অপহরণের পর ছিনতাই এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কলকাতার এন্টালি থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বশির মিয়ার বাড়ি ফরিদপুরে বলে জানা তদন্তকারী কর্মকর্তা।

তদন্তকারীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ফরিদপুরের বাসিন্দা বশির মিয়া নামের ওই ব্যবসায়ী কলকাতার শিয়ালদার এক হোটেলে ওঠেন। তার সঙ্গে ছিলেন ইলিয়াস নামের এক বন্ধু। পুলিশের দাবি, বশির ও ইলিয়াস শিয়ালদা স্টেশনের কাছে এক ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ব্যবসার কাজের জন্যই তারা ওই ব্যক্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে ওই ব্যক্তি এসে তাদের শিয়ালদা থেকে ট্রেনে নিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, বশির অভিযোগ করেছেন, হাবরায় নামার পরে কয়েকজন অচেনা যুবক তাদের জোর করে একটি গাড়িতে তুলতে চান। সেই সময় শিয়ালদা স্টেশন থেকে যে ব্যক্তির সাথে তারা হাবরা এসেছিলেন তিনি পালিয়ে যান। দুষ্কৃতিকারীরা তাদের জোর করে ওই গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যান এবং কোথাও নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। তাদের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। মুক্তিপণ দিতে প্রথমে অস্বীকার করলে দুজনকে হকিস্টিক দিয়ে মারধর করা হয় এবং কপালে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে দুজনকে বেআইনি অস্ত্র পাচারের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। 

বশির পুলিশকে জানান, এর পরে তিনি বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে তার বাবার কাছে টাকা চেয়ে পাঠান। তার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ টাকা পাঠানো হলে সেই টাকা তিনি অপহরণকারীদের হাতে তুলে দেন। এছাড়া তার সঙ্গে থাকা সাড়ে ৭ হাজার ডলার, ৪৫ হাজার টাকা দামের ঘড়ি এবং সোনার আংটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। টাকা পাওয়ার তিন দিন পর রবিবার বশিরকে দালালের মারফত বাংলাদেশের সীমান্ত নিয়ে গিয়ে সীমানা পার করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে দুষ্কৃতিকারীরা।

বশির পুলিশকে জানান, বন্দি অবস্থায় তাদের বিরিয়ানি খেতে দেওয়া হয়। বিরিয়ানির প্যাকেটের দোকানের ঠিকানা দেখে তারা বুঝতে পারেন কোন এলাকায় রাখা হয়েছিল। পরে দালাল তাদের সীমান্তে নিয়ে গেলে তারা চিৎকার করে সীমান্তে বিএসএফ'কে সব জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। সত্যিকার অর্থেই দালাল ভয় পেয়ে যান এবং তাদের কলকাতায় ফিরতে সহায়তা করেন। এরপরে তিনি কলকাতায় এসে এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এন্টালি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এই বিষয়টি খুব গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করবেন এবং অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা