kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

আবরার হত্যায় চার্জশিট উপলক্ষে ডিএমপির সংবাদ সম্মেলন

আসামিরা এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত ছিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামিরা এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত ছিল

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে  অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এতে মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। আজ বুধবার (১৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ উপলক্ষে দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আবরারকে কেবল শিবির সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে তা নয়, আসামিরা এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, একক কোনো কারণে আবরার হত্যাকাণ্ডটি হয়নি। তিনি শিবির করেন কি-না, হত্যার পেছনে এটি একটি মাত্র কারণ। কিন্তু যারা তাকে হত্যা করেছেন তারা এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।

মনিরুল ইসলাম বলেন, কেউ তাদের সঙ্গে দ্বিমত করলে, সালাম না দিলে, তাদের সামনে হেঁসে দিলে ইত্যাদি কারণে তারা নির্যাতন করত। অভিযুক্তরা র‍্যাগিংয়ের নামে নতুনদের আতঙ্কিত রাখতে এসব কাজ করত। এসব বিষয়ে আমরা আগে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে তদন্তে একজন সাক্ষী বলেছে যে, একজনকে সালাম দেয়নি বলে তাকে পেটানো হয়েছে। তিনি বলেন, র‍্যাগিংয়ের নামে উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভ্যস্ততার অংশ হিসেবেই আবরার হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকে মনিটরিং করলে এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত, এটি তাদেরই মনিটর করার কথা।

তদন্ত প্রসঙ্গে মনিরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, রাত ১০টার পর থেকে আবরারের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। রাত ২টা ৫০ মিনিটের দিকে ডাক্তার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন। অনেক দীর্ঘ সময়ে তাকে পেটানো হচ্ছিল। তাকে হয়তো একটু আগে হাসপাতালে নিয়ে গেলে এমন নৃশংস পরিণতি হতো না।

একই ধরনের ঘটনা বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনের পরেও চার্জশিটের অনেকে খালাস পেয়েছে, জামিনে বের হয়েছেন-  সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজিৎ হত্যায় যারা রড দিয়ে পিটিয়েছিল তাদের ফাঁসি হয়েছে। অভিযুক্ত কয়েকজন আবার খালাসও পেয়েছে। সেই মামলায় আমরা তেমনভাবে সিসিটিভি ফুটেজ পাইনি। এ ধরনের ঘটনা প্রমাণের জন্য ট্রেডিশনাল তদন্ত বা চাক্ষুষ সাক্ষীর ওপর নির্ভর করতে হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন, তদন্ত সহায়ক দল ছিল, সিসিটিভি ফুটেজ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণ, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার গ্রুপের তথ্য রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণ, পাশাপাশি আটজন আসামির বক্তব্যও হত্যাকাণ্ডের অনেক বিষয় প্রমাণ করে, যদিও এ ধরনের ঘটনায় চাক্ষুষ সাক্ষী থাকলেও সাক্ষ্য দিতে এগিয়ে আসে না। কিন্তু আমরা যেভাবে চার্জশিট প্রস্তুত করেছি আশা করছি সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে- বলেন মনিরুল ইসলাম।

চার্জশিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চার্জশিট আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, আবরার হত্যায় সরাসরি অংশে নেয় ১১ জন। বাকি ১৪ জন হত্যাকাণ্ডে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত রয়েছে। মামলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। এর মধ্যে এজাহারে ১৬ জন ও এজাহারের বাইরে পাঁচজন। বাকি চারজন পলাতক। পলাতক চারজনের মধ্যে তিনজন মামলার এজাহারভুক্ত। এরা হলেন জিসান, তানিন ও মোর্শেদ। আর এজাহার বহির্ভূত একজন রাফি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা