kalerkantho

বুধবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৩ রবিউস সানি     

নুসরাতকে হত্যা মামলা

ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামির হাইকোর্টে আপিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামির হাইকোর্টে আপিল

নুসরাত জাহান রাফি

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হাইকোর্টে আপিল আবেদন (জেল আপিল) দাখিল করেছেন। আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আপিল দাখিল করা হলো। আসামিরা ফেনী কারাগারে থাকাবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এই জেল আপিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ গত ২৪ অক্টোবর এক রায়ে নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আইন অনুযায়ী ফাঁসির রায় অনুমোদনের জন্য ফেনীর আদালত থেকে ডেথ রেফারেন্স হিসেবে রায়টি গত ২৯ অক্টোবর লাল কাপড়ে মুড়িয়ে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এ অবস্থায় আসামিরা হাইকোর্টে আপিল দাখিল করলেন। নিয়ম অনুযায়ী এখন এই মামলার পেপারবুক তৈরি করা হবে। মামলার যাবতীয় নথি দিয়ে এই পেপারবুক প্রস্তুত হবার পর হাইকোর্টে শুনানি হবে। 

যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৭ মার্চ একই মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে মামলা করেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার। এই মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষার হল থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় মুখোশধারী ও বোরকা পরা দুর্বৃত্তরা। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় প্রথমে নুসরাতকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিত্সাধীন অবস্থায় নুসরাত গত ১০ এপ্রিল বুধবার রাতে মারা যায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গত ২৯ মে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। এরপর ২০ জুন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২৭ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বিচার শেষে ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন ফেনীর আদালত। 

১২ আসামি কুমিল্লা কারাগারে
এদিকে, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ফেনী থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কারা সূত্র জানিয়েছে, ফেনী কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ না থাকায় এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁদের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা গত সোমবার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর জন্য অনুমোদন দিলে ফেনী জেলা কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার রফিকুল কাদের বন্দিদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইজি প্রিজনস পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, ফাঁসির আসামিদের সাধারণত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। ফেনী কারাগারটি কেন্দ্রীয় কারাগার না হওয়ায় কাছাকাছি কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

কারা সূত্র জানায়, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১৪ জনকে কুমিল্লা ও দুজন নারী আসামিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ১২ আসামিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিনের ১৩ নভেম্বর জেলা জজ আদালতে মামলার দিন ধার্য থাকায় আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাঁদের কুমিল্লায় পাঠানো হবে। আজ বুধবার নারী আসামি কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর কথা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা