kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে বিমান ওঠা-নামায় বিঘ্ন

অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ২২:০১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটের কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল

বুলবুল’-এর প্রভাবে দেশের প্রায় সব অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রেখেছে বিমান সংস্থাগুলো। উপকূলবর্তী চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর শনিবার বিকেল ৪টা থেকে আগামীকাল ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তবে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক আছে। এ ছাড়া কলকাতার নেতাজি সুভাস চন্দ্র বোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করায় সেখানে ঢাকা থেকে সব ফ্লাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে পরিচালিত সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মো. খালিদ হোসেন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের সময় বিমানবন্দরে কী ব্যবস্থা নিতে হবে, তার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর আছে। আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছি। গতকাল থেকেই দেশের সব বিমানবন্দরের পরিচালক, ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বরিশাল বিমানবন্দরের ঝুঁকি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

দেশের প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার তৌহিদ উল আহসান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্কতা করছে। ভোর ৬টার পর দুই বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে কি-না তা জানা যাবে।

জানতে চাইলে নভোএয়ার এর বিপণন ও বিক্রয় প্রধান মেজবাহ-উল-ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ঘূর্ণিঝড়ে আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, বরিশাল, কলকাতা ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আমরা খালি সাপেক্ষে যাত্রীদের পরবর্তী কোনো ফ্লাইটে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। কিংবা কেউ চাইলে রিফান্ডও নিতে পারবেন।

১৪ ঘণ্টা বন্ধ চট্রগ্রাম বিমানবন্দর : ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম শনিবার বিকাল চারটা থেকে বন্ধ রয়েছে। বিকেল চারটা থেকে রবিবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উঠানামা বন্ধ থাকবে। এই কারণে অন্তত ১৩টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই আভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার এ বি এম সারওয়ার ই জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, বিকাল চারটা থেকে ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করায় তেমন সমস্যা হয়নি। আগে-ভাগে অবহিত করায় এরমধ্যে শারজাহগামী এয়ার এরাবিয়া ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে; বাতিল হয়েছে মাসকাটগামী রিজেন্টের ফ্লাইট এবং ইউএস বাংলার ফ্লাইট।

বিকাল চারটার পর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটের বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দরে রাত ১২টার পর থেকে সকাল পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট না থাকায় অন্য বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ছে না। এরপরও জরুরি প্রয়োজনে আমরা চট্টগ্রামের বদলে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবগুলো ফ্লাইট পৌঁছে সকালে-বিকালে। গতকাল বিমানবন্দর থেকে সর্বশেষ ফ্লাইট ছেড়ে গেছে দুবাইতে। সেই বিমানে যাত্রী কম ছিল।

জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক আরিফুজ্জামান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের সবগুলো ফ্লাইটই নির্ধারিত যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ছেড়েছে। বিকাল সোয়া চারটার একটি ফ্লাইট চারটার আগেই বিমানবন্দর ছেড়েছে। এতে ৭০ জন নির্ধারিত যাত্রী যেতে পারেননি। রাতে একটি অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট ছিল সেটি বাতিল করা হয়েছে-যোগ করেন তিনি।

কলকাতা বিমানবন্দর বন্ধ : বুলবুলের হাত থেকে রেহাই পেতে কলকাতা বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকছে বিমানবন্দর। কোনো বিমান ওঠা-নামা করবে না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের পরিচালক কৌশিক ভট্টাচার্য। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা। বাংলাদেশ থেকেও বন্ধকালীন সময়ের মধ্যে সব বিমান সংস্থা তদের ফ্লাইট বাতিল করেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা