kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবি 'উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত': কী আছে ৭০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে?

►প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সাড়া দিয়ে দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত তৈরি করা হয়েছে ►শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদন ►এখনো আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা ►হলগুলো বন্ধের প্রতিবাদ ও মেয়েদের আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবি 'উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত': কী আছে ৭০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে?

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে তোলা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই প্রেক্ষিতে ‘উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত’ সংবলিত ৭০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন গতকাল রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. আলিম খানের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক রেজা, অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান চয়ন ও অধ্যাপক ফজলুল করিম পাটোয়ারী। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একজন অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিন গত রাত সাড়ে ১১টায় কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে অসুস্থ, অস্বচ্ছল ও বিভিন্ন দু্র্ঘটনায় হতাহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে জাবির ভিসির বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এ কথা বলেন।

আন্দোলনকারী এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্যে সাড়া দিয়ে আমরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগের তথ্য-উপাত্ত আমরা করেছি। আমাদের তৈরি তালিকায় উপাচার্য কর্তৃক টেক কমিটি গঠন, টেন্ডার ছিনতাই, উপাচার্যের ব্যক্তিগত সচিবের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ছাত্রলীগের চাঁদার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা, উপাচার্যের স্বামীর পিএইচডিতে নিয়মবহির্ভূতভাবে ভর্তি, স্কলারশিপ প্রদান ও ডিগ্রি প্রদান করাসহ উপাচার্যের বর্তমান ও অতীতের বেশ কিছু অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার তথ্য-উপাত্ত রয়েছে।’

জাবির ভিসি অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সে অনুযায়ী আজ শনিবার বিকেল ৪টায় পটচিত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে। পরে পটচিত্রটি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টানিয়ে দেওয়া হবে। এ সময় ‘উপাচার্যের দুর্নীতির তথ্য-উপাত্ত’ বার্তাবাহকের মাধ্যমে রাতের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। 

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন এর আগে গতকাল বিকালে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলামের দুর্নীতির তথ্য-প্রমাণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হবে। নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত উপাচার্যকে অপসারণ এবং দুর্নীতিতে জড়িতদের রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে আবাসিক হলগুলো বন্ধের প্রতিবাদে ও মেয়েদের আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিতে হলগুলোর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। গতকাল সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন শেষে কলা ও মানবিক অনুষদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রীতিলতা ও জাহানারা ইমাম হল সংলগ্ন স্থানে এসে শেষ হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা