kalerkantho

শনিবার । ২৩ নভেম্বর ২০১৯। ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সরবরাহ বেড়েছে শীতের সবজির, কমেছে দামও

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরবরাহ বেড়েছে শীতের সবজির, কমেছে দামও

সরবরাহ বাড়ায় শীতের আগাম সবজির দাম কমেছে। অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজ, চাল, আটা ও চিনির দাম। লিটারে দুই টাকা বেড়ে পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ৬২-৭০ টাকায়। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে  মসুর ডাল ও রসুনের। এ ছাড়া মাছ ও মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে।

প্রতিডজন লাল ডিম ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, সাদা ৯৫ টাকা, হাঁসের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হতে দেখা গেছে।। সবজির দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে নিত্যপণ্যের বাজারে।

আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট এবং মিরপুর সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, এবার কয়েক দফা বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সারাবছর সবজির দাম বেশি ছিল। বর্ষায় সবজি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে গত কয়েক মাস ধরেই সবজির দাম চড়া ছিল। কিন্তু শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বেড়েছে বাজারে। ফলে দামও কমেছে প্রায় সব ধরনের সবজির। প্রকারভেদে ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে নানা সবজিতে। পুরান ঢাকার কাপ্তান বাজারে প্রতিকেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সিম ৬০ থেকে ৭০ টাকা আর গাঁজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। এক সপ্তাহ আগে এই বাজারে প্রতিকেজি টমেটো বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ১০০ টাকা আর শিম বিক্রি হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে।

একইভাবে কেজিপ্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা কমে পটল বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪০ টাকা, উস্তে-ঝিঙা-ধুন্দুল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, শসা জাত ও মানভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া আকারভেদে প্রতিপিস বাঁধা কপি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, ফুল কপি ২৫ থেকে ৪০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৪০ থেকে ৬০ টাকা, জালি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

কমেছে কাঁচা মরিচের দামও। খুচরা বাজারে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে কাঁচা মরিচ। সবজির দাম প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বেড়েছে বাজারে। এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে সবজির সরবরাহ বাড়বে। এ বছর সবজি উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগেভাগেই দাম কমে আসছে।

অন্যদিকে, বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে ক্রেতারা। মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের কয়েকজন সবজি ক্রেতা বলেন, সারা বছর সবজির দাম বেশি ছিল। এখন দাম কমায় ক্রেতারা বেশি পরিমাণে সবজি কিনতে পারছেন।

এদিকে বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বাজারভেদে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতিকেজি দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এসব বাজারে বর্তমানে প্রতিকেজি আমদানি করা ভারতীয় (বড়) পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ (ছোট) প্রতিকেজি বিক্রি হয়েছিল ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি সব ধরনের পেঁয়াজে ১০ টাকা কমেছে।

এ ছাড়া বাজারে মসলা জাতীয় অন্য পণ্য আদা-রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এসব বাজারে প্রতিকেজি দেশি রসুন বিক্রি হতে দেখা গেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। চায়না রসুন ১৫০ টাকা, দেশি আদা ১৭০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, প্রতিকেজি কাঁচা আদা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা।

অন্যান্য পণ্যের মধ্যে ভালোমানের মসুর ডাল ১১০-১২০, তুরস্কের মোটা দানার মসুর ডাল ৫৫-৬৫ টাকা, চিনি ৫৬-৬০, সয়াবিন তেল প্রতিলিটার ৭৭-৮৫, আটা ২৬-৩৬ এবং মোটা চাল ৩০-৩৮, সরু মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল ৪৫-৫৫ এবং মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল ৪২-৪৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। মাছ ও মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১২০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা