kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

'সব বোন যেন এমন প্রতিবাদী থাকেন সবসময়'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৪৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'সব বোন যেন এমন প্রতিবাদী থাকেন সবসময়'

'রায়ের মধ্য দিয়ে যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়, যেন আর কোনো বোনকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে না হয়। তবে রায় যাই হোক, সব বোন যেন এমন প্রতিবাদী থাকেন সবসময়।'

জলভরা চোখ নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রতিবাদী মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নোমান। বোন হত্যায় জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেছেন তিনি।

বোনকে হত্যার পর এখনও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন হত্যাকারীরা। আদালত চত্বরেই তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকবার। গত ৩০ মে মামলার হাজিরা দিতে পুলিশি হেফাজতে আসামিদের তোলা হয় আদালতে। সেখানেই মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ও পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকনকে হুমকি দেন তারা।

ওইদিন গণমাধ্যমকে নোমান বলেন, 'মামলার আসামি ও তাদের আত্মীয়-স্বজনরা আদালতে প্রশাসনের সামনে আমাকে, আমার পরিবার ও আমার আইনজীবীকে নানা হুমকি দিয়ে গালমন্দ করে।'

কিন্তু লড়াকু নুসরাতের মতোই অদম্য সাহসী তাঁর বড় ভাই নোমানও। সমস্ত হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গেছেন। মামলার বিচারকাজ শেষ। এখন রায়ের পালা। রায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। কালের কণ্ঠকে নোমান বলেন, 'রায়ের মধ্য দিয়ে যেন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়, যেন আর কোনো বোনকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে না হয়। তবে রায় যাই হোক, সব বোন যেন এমন প্রতিবাদী থাকেন সবসময়।'

গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তার মায়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদরাসাকেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতকে কৌশলে মাদরাসার প্রশাসনিক ভবন কাম সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো চারজনকে আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মাদরাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। আসামি করা হয় মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজকে।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আসামিদের। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১২ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষের নির্দেশে তাঁর অনুসারীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাঁকে হত্যা করেছেন।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ১৬ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে গত ২৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন  নুসরাতের ভাই নোমান। তিনি বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা আছে বলেই এত দ্রুত সময়ে হত্যাকারীদের বিচার সম্ভব হয়েছে। তিনি আমাদের পাশে ছিলেন বলেই আসামিদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।'

আসামিদের হুমকি-ধমকি সম্পর্কে নোমান বলেন, 'হত্যাকারী ও তাদের স্বজনরা আমাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে চেয়েছে, ঘরে বাতি দেওয়ার মতো কোনো লোক থাকবে না, কবর থেকে নুসরাতের লাশ গায়েব করা হবে—এসব হুমকি দেওয়া হয়েছে।' তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ আমাদের পাহারা দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে।' রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত এ নিরাপত্তা কার্যক্রম চালু রাখার দাবি করেন নোমান।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা