kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চর বোরহানউদ্দীনের ঘটনায় ১১ বিশিষ্টজনের উদ্বেগ

ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত

সম্প্রতি চর বোরহানউদ্দীনে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ১১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ফেসবুকের মাধ্যমে মিথ্যা ও পরিকল্পিত গুজবকে পুঁজি করে সারাদেশে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি ও পরাজিত রাজনৈতিক শক্তির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সংগঠিত আয়োজন আমাদেরকে বিশেষভাবে শংকিত করেছে।’

বিবৃতিদাতারা হলেন- অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, সাংবাদিক-কলামিস্ট আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক, অধ্যাপক অনুপম সেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার, মামুনুর রশীদ, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ডা. সারওয়ার আলী ও প্রাবন্ধিক মফিদুল হক।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের এক যুবকের হ্যাকড একাউন্ট থেকে কতিপয় দুষ্কৃতকারী সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলে ওই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়! পুলিশ ও প্রশাসন তরিত সফল  সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়ার পরিসরে হঠাৎ একদল ধর্মান্ধ মৌলবাদী ও সুযোগ সন্ধানী লোক হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, পল্লী ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ‌ওপর চড়াও হয় এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটে। এতে প্রতীয়মান হয় যে পুরো ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত। শুধু তাই নয় হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যপরিষদের নামে একদল উচ্ছৃঙ্খল লোক চট্টগ্রামসহ সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দির আক্রমণ করে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে তৎপর। সাম্প্রতিক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নিকট অতীতের ফেসবুক কেন্দ্রিক রামু ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় সংগঠিত বেদনাদায়ক সাম্প্রদায়িক ঘটনা। গত কদিনে ধারাবাহিকভাবে উগ্র মৌলবাদী ও বিপথগামী রাজনৈতিক শক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সমাবেশে ‘ঘৃণা বক্তব্য’ প্রদান করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও সম্প্রীতি বিনাশের এক মহা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। 
চলমান ঘটনায় একথা স্পষ্ট যে প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন অভূতপূর্ব উন্নয়নের পথে দ্রুত ধাবমান এবং শেখ হাসিনা যখন সামাজিক অনাচার ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযান দলমতের ঊর্ধ্বে শক্ত হাতে পরিচালনা করছেন এবং জনগণ যখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, ঠিক তখন পরাজিত রাজনৈতিক দল ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা  সৃষ্টির অপপ্রয়াসে লিপ্ত।

ষড়যন্ত্র চলছে দেশ জাতি ও মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক শক্তি ও সরকারের বিরুদ্ধে। তাই জনগণকে সচেতন থেকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের জনগণ যে কোনো মূল্যে দেশ ও সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা