kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবির আন্দোলনে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২২:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাবির আন্দোলনে শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের চলমান আন্দোলনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছে শিবির এমন দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলমান আন্দোলনে শিবিরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে দাবি করে তারা বলেন, এ আন্দোলনের মদদদাতা শিবির।

আজ বুধবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার আন্দোলনকারীদের মশাল মিছিল চলাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের একজনের মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং স্বীকারোক্তি থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে আন্দোলন সংগঠকগণ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনকে জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। যে আন্দোলন চলছে তার পিছনে মদদ দিচ্ছে শিবির সেটিও স্পষ্ট হয়েছে। আন্দোলনকারীগণ এ বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলা নয় দেশকে অস্থিতিশীল করার যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তার স্বরূপ উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের মশাল মিছিলে যোগ দিতে এসে দুজন শিবির নেতা ধরা পড়ায় উপাচার্য বিরোধী ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্টর অফিস মশাল মিছিলে যোগ দিতে আসা দুইজন শিবির নেতাকে মোটরসাইকেলসহ চৌরঙ্গী থেকে আটক করে।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বলেন, আন্দোলনকারীগণ কর্তৃক পালিত দিনের বেলার বিভিন্ন  কর্মসূচিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম লক্ষ করা গেলেও সন্ধ্যা বা রাতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। আন্দোলন সংগঠকগণ এ কাজে শিবির এবং বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে জমায়েত করেন তা ২২ অক্টোবর মশাল মিছিলে যোগ দিতে আসা শিবির নেতা ধরা পড়ায় তার প্রমাণ মিলেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রাধ্যক্ষ, বিভাগীয় সভাপতি প্রমুখ।

এদিকে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধায় মশাল মিছিল করে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মশাল মিছিল চলকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌরঙ্গী এলাকা থেকে সাবেক দুই শিক্ষার্থী সাদ শরীফ ও নূরুল আমিনকে শিবির সন্দেহে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদ শরীফ শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে স্বীকার করেছেন দাবি করে প্রশাসন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পুলিশে সোপর্দ করে এবং সাদ শরীফের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছে।

আটক হওয়া আরেক সাবেক শিক্ষার্থীর নূরুল আমিনের শিবির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক তসলিম উদ্দিন জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সাদ শরীফকে আসামি করে বুধবার দুপুরে এ মামলা করা হয়। তার ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়টসঅ্যাপ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর ও ষুড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে অপরজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

অপরদিকে প্রশাসনের এ দাবির নিন্দা জানিয়ে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বলে, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ অত্যন্ত নির্লজ্জের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে এবং এই আন্দোলনের সমর্থন দেওয়া শিক্ষার্থীদের শিবির আখ্যা দিয়ে নিজেদের নীচ মানসিকতা প্রকাশ করেছে।


তারা এর প্রতিবাদে কাল বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর বারোটায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবেন।

এ প্রসঙ্গে আন্দোলনের সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, শিবিরের সংশ্লিষ্টতা তারা কিভাবে প্রমাণ করছে আমার জানা নেই। তারা এটাকে জোরপূর্বক এখানে ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমারা এতো দিন থেকে চালিয়ে আসছি আমাদের এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্র জোট, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষকদের বিভিন্ন জোট। এরাই মূলত এই আন্দোলনকে পরিচালনা করছে সুতরাং শিবিরের সাথে সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তারা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং একটা গল্প সাজিয়ে আমাদের দোষারোপ করে আমাদের আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে চাইছে।

আজ বুধবার প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিলেই জাবি উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। 

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে’র অভিযোগে প্রায় দুই মাস যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে। নির্মিতব্য তিনটি হলের স্থান পুনর্বিবেচনাসহ দুটি দাবি মেনে নিলেও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি মানছেন না উপাচার্য। এ কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তার পদত্যাগ দাবি করে আসছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা