kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যু : আরো দুই প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে উপস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্কুলছাত্র তিতাসের মৃত্যু : আরো দুই প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে একজন ভিআইপির (যুগ্ম সচিব) অপেক্ষায় প্রায় দুই ঘণ্টা ফেরি আটকে রাখার কারণে স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে রাষ্ট্রপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

তিতাসের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দাখিল করার পর এবিষয়ে শুনানি শেষে আদালত আরো দুটি প্রতিবেদন চেয়ে আদেশ দেন। তিতাসের মৃত্যুর পর এ নিয়ে করা এক রিট আবেদনে শুনানির ধারাবাহিকতায় আজ নতুন আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। রিট আবেদনকারী অ্যাডভোকেট মো. জহির উদ্দিন লিমন নিজেই শুনানি করেন। 

গত ২৫ জুলাই রাতে সরকারের এ টু আই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি এক নম্বর ফেরিঘাটে প্রায় ২ ঘণ্টা ‘কুমিল্লা ফেরি’ বসিয়ে রাখা হয়। ফেরিঘাটে আটকে পড়া স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষকে বহণকারী অ্যাম্বুলেন্স পার করার জন্য বারবার অনুরোধ জানিয়েও ফেরি ছাড়া যায়নি। ফলে অ্যাম্ব্যুলেন্সেই মৃত্যু হয় তিতাসের। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে তিতাসের পরিবারকে তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন লিমনের করা এক রিট আবেদনে গত ৩১ জুলাই এক আদেশে ঘটনা তদন্ত করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই নির্দেশের একদিন আগেই ৩০ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির ৩৫ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করার জন্য গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। 

ওই প্রতিবেদনে দেরিতে ফেরি ছাড়ার জন্য দায়িত্বরত ফেরি ঘাটের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারিকে দায়ী করেছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটি আলোচিত যুগ্মসচিব আব্দুস সবুর মণ্ডলের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি। তবে ওই যুগ্মসচিবের জন্য ২ ঘণ্টা ফেরি দাঁড় করিয়ে রাখার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এরকম অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স/গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণসহ ৭ দফা সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যে তিনজনকে দায়ী করা হয়েছে তারা হলেন ঘাট ম্যানেজার মো. সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী মো. খোকন মিয়া এবং উচ্চমান সহকারী ও গ্রুপ প্রধান ফিরোজ আলম। তাদের কাজে অবহেলা, ঘাট ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা ও বিআইডব্লিউ পরিপত্র লংঘন করে বিলম্বে ফেরি ছাড়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই প্রতিবেদন বুধবার আদালতে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা