kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘প্রশাসনিক কাজে অংশ নিলেই উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করা হবে’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘প্রশাসনিক কাজে অংশ নিলেই উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করা হবে’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, যৌন নিপীড়নকদের পৃষ্ঠপোষকতা’র অভিযোগ করে তার অপসারণের দাবিতে সর্বাত্মক অসহযোগ ও প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ।

আগামীকাল বুধবার (২৩ অক্টোবর) থেকে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে উপাচার্য হিসেবে কোনো ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। তার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড রুখে দিতে তাকে বাসভবনে অথবা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হবে বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া উপাচার্য স্বাক্ষরিত সকল অফিস আদেশ প্রত্যাখানেরও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

আন্দোলনরত বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, উপাচার্য তার বাসভবন কিংবা কার্যালয় যেখানেই প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবেন আমরা সেখানেই বাঁধা প্রদান করবো, তাকে অবরুদ্ধ করে রাখবো। যেহেতু আগামীকাল বন্ধের দিন তাই ২৪ অক্টোবর থেকে তাকে কোনো ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ‘আগামীকাল ২৩ অক্টোবর বিকেলে পূর্ব নির্ধারিত সিন্ডিকেট সভা হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনের কারণে সিন্ডিকেট সভা বাঁধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কায় আজ মঙ্গলবার অনিবার্য কারণ দেখিয়ে সভা বাতিল করা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি করেছেন এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। সুতরাং এমন একজন দুর্নীতিবাজ উপাচার্যকে আমরা মেনে নিতে পারি না। তাই আগামীকাল বুধবার (২৩ অক্টোবর) থেকে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হবে না। প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিলেই আমরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখবো।’

আন্দোলনের সমন্বয়ক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘একজন দুর্নীতিবাজ উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারে থাকতে পারেন না। এ ছাড়া উপাচার্য যৌন নিপীড়কদের পৃষ্টপোষকতা দিচ্ছেন সব মিলিয়ে উপাচার্যের নৈতিক শক্তি নেই উপাচার্য থাকার। আমরা এখন সরাসরি কঠোর কর্মসূচির দিকে যাবো। যতখন না পর্যন্ত তাকে অপসারণ করা হবে আমাদের আন্দোলন চলবে। তারই অংশ হিসেবে তাকে সকল ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে দেওয়া হবে না।’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে তার কুশপুত্তলিকা দাহকে ‘নারীর প্রতি অবমাননা ও সহিংসতা’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়কে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে সদ্য গঠিত উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ এর ব্যানারে নারী-শিক্ষকবৃন্দের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে নারী শিক্ষকরা বলেন, ‘অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বাংলাদেশের প্রথম নারী উপাচার্য। তার শাড়িতে আগুন দেওয়া মানে নারীকে বড় হতে বাধা দেওয়া, নারীর উন্নয়নে বাধা দেওয়া। এতে নারীর আদর্শকে অবমাননা করা হয়েছে।’ মানববন্ধনে প্রায় দেড় শতাধিক নারী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে একই দাবিতে আজ সন্ধা ৭টায় মশাল মিছিল করার কথা রয়েছে আন্দোলনকারী শিক্ষক শিক্ষার্থীদের।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে’র অভিযোগে প্রায় দুই মাস যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন। নির্মিতব্য তিনটি হলে স্থান পুনর্বিবেচনাসহ দুটি দাবি মেনে নিলেও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি মানছেন না উপাচার্য। এ কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে আসছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা