kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিজেকে ঢাবির শিক্ষক দাবি জবি ভিসির, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজেকে ঢাবির শিক্ষক দাবি জবি ভিসির, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে যিনি মনে ধারণ করেন না তিনি কেন জবির উপাচার্য পদে বহাল থাকবেন? আমরা তাকে উপাচার্যকে হিসেবে চাই না। আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় প্রতিপন্ন করে উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে থেকে উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা। তিনি জবির উপাচার্য হওয়ার পরও নিজেকে ঢাবির শিক্ষক হিসেবে দাবি করেন, তাহলে তিনি ঢাবিতেই চলে যাক। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে মনে ধারণ করেন না, তাহলে তিনি কেন জবির ভিসি পদে বহাল থাকবেন।

এ সময় মানববন্ধনে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তৌসিফ মাহমুদ সোহান বলেন, আগামী রবিবারের মধ্যে উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সাথে বক্তব্যের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। যদি বক্তব্য প্রত্যাহার না করেন তাহলে আরো কঠোর কর্মসূচি ডাক দেওয়া হবে। পরে মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার একটি বেসরকারি টেলিভিশনে এক টকশোতে কথা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, যুবলীগের দায়িত্ব পেলে তিনি উপাচার্য পদ ছেড়ে দেবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হলেও তিনি এখনো যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক নম্বর সদস্য এবং আওয়ামী লীগ সভানেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যদি দায়িত্ব দেন তাহলে তিনি উপাচার্য পদ ছেড়ে দিয়ে যুবলীগের পদে দায়িত্ব পালন করবেন।

কিন্তু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৫ অনুযায়ী ৮ নাম্বার ধারায় লেখা আছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, রেজিস্টার, প্রক্টর, পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব থাকবেন। সে হিসেবে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা। এই আইনের ৪৪ নম্বর ধারার চার নম্বর উপধারায় উল্লেখ আছে- বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।

কিন্তু উপাচার্য এ আইনের বিষয়ে কালের কণ্ঠকে বক্তব্য দেন যে, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন না। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী নয়। এ সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগকর্তা বলে দাবি করেন। উপাচার্যের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ বিষয়ে উপাচার্যের মন্তব্য জানতে তার দপ্তরে গেলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এমনকি সাংবাদিকরা কেন এই এসাইনমেন্ট কাভার করতে এসেছে তার কারণ জানতে চান।  এ সময় তিনি বলেন, যারা মানববন্ধন করছে তারা সাধারণ শিক্ষার্থীরা নয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা