kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভোলায় সংঘর্ষ

পাঁচ হাজার অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পাঁচ হাজার অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে মামলা

ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। সেখানে সব ধরনের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসক। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে দুইটি পৃথক কমিটি।

ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারকে কেন্দ্র করে ভোলায় পুলিশের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার রাতে বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক আবিদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত এসব আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।

এক তরুণের ফেসবুক আইডি হ্যাক করা হয় গত শুক্রবার। এরপর সেই আইডির মেসেঞ্জারে ‘ধর্ম অবমাননাকর’ কথাবার্তা চালানো হয়। সেই কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া হলে সেটি ভাইরাল হয়। এরপর ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ডাক দেওয়া হয় বিক্ষোভ সমাবেশের। ওই তরুণ শুক্রবারেই থানায় গিয়ে তাঁর ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানান। পুলিশ এ নিয়ে ঝামেলা হওয়ার বিষয়টি আঁচ করে তরুণকে নিজেদের হেফাজতে রেখে তাঁকে সঙ্গে নিয়েই অভিযান চালিয়ে হ্যাকারদের ধরে ফেলে। পাশাপাশি আলেম-উলামাদের নিয়ে প্রশাসন রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। আইডি হ্যাক করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্ম অবমাননার প্রচারণার বিষয়টি অবগত হয়ে উলামারা গতকাল রবিবারের কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেন।

কিন্তু এর পরও একদল তরুণের লিফলেট ও মাইকে প্রচারণা চালানোর কারণে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মাঠে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক। অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আহতদের অনেককে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নিহতরা হলো বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদরাসাপড়ুয়া ছেলে মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেলওয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) ও মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।

সংঘর্ষের কারণ যা জানা গেছে

একটি সূত্র জানায়, সমাবেশটি না করার জন্য বোরহানউদ্দিন ঈদগাহ মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল উদ্দিন ও বাজার মসজিদের ইমাম মাওলানা মিজানকে পুলিশ অনুরোধ জানায়। পুলিশের অনুরোধে এ দুই ইমাম সকাল ১০টার দিকেই যেসব লোক এসেছিল, তাদের নিয়ে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে সমাবেশ সমাপ্ত করেন। কিন্তু ততক্ষণে বোরহানউদ্দিনের বিভিন্ন গ্রাম থেকে কয়েক হাজার লোক এসে ঈদগাহে জড়ো হয়। একপর্যায়ে তারা ওই দুই ইমামের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং সেখানে থাকা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। পুলিশ মসজিদের ইমামের কক্ষে আশ্রয় নেয়। জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ গুলি ছোড়ে।

অন্য একটি সূত্র বলছে, সকাল ৯টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান নেয় তারা। পরে পুলিশ ‘বাটামারা পীর সাহেব’ মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তবে বোরহানউদ্দিন থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জাফর ইকবাল জানান, ঈদগাহ মাঠের কাছেই একটি মাদরাসার কক্ষে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন। একজন পুলিশ সদস্য শৌচাগারে যাওয়ার জন্য নিচে নামলে তাঁর দিকে ইট ছুড়ে মারে বিক্ষোভকারীরা। একই সঙ্গে তারা ‘ধর ধর’ বলে ছুটে আসে। এর পরই সংঘর্ষ বেধে যায়। আরেকটি সূত্র জানায়, ছোট ছোট মিছিল যখন মাঠ দিয়ে যাচ্ছিল, তাদের ভেতরে একদল তরুণ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়েছিল। তাতেই বাধে সংঘর্ষ।

ভোলা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মো. কায়সার বলেন, ‘শনিবার স্থানীয় আলেম-উলামদের নিয়ে থানায় বৈঠক হয়েছে। সেখানে তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছিল—বিপ্লবের আইডি হ্যাক হয়েছে। যারা হ্যাক করেছে, তাদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের কথা শুনে আলেম-উলামারা তাঁদের পূর্বনির্ধারিত রবিবারের কর্মসূচি প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন। কিন্তু রবিবার সকালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পাই, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সফল করতে তরুণরা মাঠে মঞ্চ তৈরি করছে। একপর্যায়ে আমরা আলেম-উলামাদের নিয়ে সভার কথা তাদের বললে তারা মঞ্চ তৈরির কাজ বন্ধ রেখে যে যার মতো করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।’

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘আমরাও থানার দিকে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে পেছন দিক থেকে একদল তরুণ আমাদের লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকে। আমরা আত্মরক্ষার্থে ঈদগাহসংলগ্ন মাদরাসার দোতলার একটি কক্ষে আশ্রয় নিই। তখন হামলাকারীরা একপর্যায়ে দরজা-জানালা ভেঙে আমাদের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে। তখন আমরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ি। পাশের রুমে থাকা পুলিশের একটি দলের ওপর হামলাকারীরা গুলি বর্ষণ করে। এতে এক পুলিশ সদস্যের ডান বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা