kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এখনও পাসপোর্ট মেলেনি, যা বললেন ভিপি নুর (ভিডিওসহ)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এখনও পাসপোর্ট পাননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর। এ নিয়ে আজ সংবাদ করেছেন তিনি। এর আগেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। আজ বেলা সাড়ে ১২টায় সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন নুর। তার পাশে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহসীন রশিদ।  

ভিপি নুরকে পাসপোর্ট না দেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনার কি মনে হয়, আপনাকে নয় ভিপি নুরকে ভয় পাচ্ছে সরকার? 

উত্তরে নুর বলেন, এ বিষয়টা স্পষ্ট যে, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধি হওয়ায় প্রতিনিয়ত ছাত্রলীগের হামলার শিকার হতে হচ্ছে। একটা ঘটনারও বিচার হয়নি। পাসপোর্ট একটা মানুষের মৌলিক অধিকার। সেটা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ভিপি নুরের চলাফেরাকে তারা রেস্ট্রিক্টেড করতে চাচ্ছে। বাইরের সাথে বা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তার যেন কোনো কানেকশন না থাকে, বাইরে কোনো ইউনিভার্সিটির সাথে। সরকার নৈতিকভাবে এতটাই দুর্বল যে আজকে তারা ছাত্র আন্দোলনকে ভয় পায়, ছাত্রদের প্রতিনিধিকে পাসপোর্ট দিতেও ভয় পাচ্ছে, যে কখন তাদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়ে যায়। সে কারণেই সাধারণ প্রতিবাদী মানুষের চলাফেরাকে তারা প্রতিনিয়ত সংকুচিত করার পাঁয়তারা করতেছে। এখন আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে, বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে তারা নিজেদের মনঃপুত রায় দেওয়াচ্ছে। 

ভিপি নুর আরো বলেন, আমার পাসপোর্টটা লাগতেছে এখন। আমাকে জানুয়ারিতে দেবে। অর্থাৎ ভিপির দায়িত্বটা শেষ হওয়ার দাঁড়প্রান্তে গিয়ে দেবে। দীর্ঘদিন ধরে যেমন পাসপোর্ট অফিস তালবাহানা করেছে।  আজকে দেবে না, কালকে আসতে বলেছে, এভাবে ঘুরিয়েছে আমাকে। এখন আবার আদালতে ঘোরাচ্ছে। হয়তো মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পেতে পারি। এতে স্পষ্ট যে আদালত যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না, আদালতকে যে প্রভাবিত করতে হচ্ছে। আজকে সাধারণ মানুষ-ছাত্র কেউ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। 

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে নেপালের ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটিতে একটি সেমিনারে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ ছিল তার। এ জন্য পাসপোর্টের জন্য এপ্রিল মাসে তিনি আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসে ফরম জমা দেন। জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট পেতে নির্ধারিত ফিও জমা দেন ব্যাংকে। 

নুরের ধারণা ছিল সাত দিন পরই পাসপোর্ট হাতে পেয়ে যাবেন। কিন্তু এক মাসেও তা না পেয়ে তিনি পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি নিয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ডিজির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। সে অনুযায়ী পাসপোর্টের ডিজির সঙ্গে দেখা করলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা থাকায় পাসপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও তো অনেক মামলা রয়েছে। তাহলে তারা কী করে পাসপোর্ট পান? তার এমন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ডিজি বিষয়টি এড়িয়ে যান। কোনোভাবেই পাসপোর্ট না পেয়ে গত আগস্ট মাসের শুরুর দিকে তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এরপর কী অবস্থা হয়েছে তা তার জানা নেই। 

তখন নুর ক্ষোভ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ‘আমি এ দেশের নাগরিক। পাসপোর্ট পাওয়া আমার অধিকার। আমি ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি, অথচ আমাকে পাসপোর্ট দেওয়া হচ্ছে না। আমি কিছুদিন ধরে অসুস্থ। ভারতে গিয়ে চিকিৎসা করানোর চিন্তা করছি। কিন্তু পাসপোর্টের অভাবে তাও সম্ভব হচ্ছে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা