kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যুতে কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রভাব পড়বে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:২৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যুতে কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রভাব পড়বে?

সীমান্তে গোলাগুলিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যুতে কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়তে পারে?

সাবেক রাষ্ট্রদূত লে. জেনালের (অব.) হারুন অর রশীদ ডয়চে ভেলেকে বলছেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি অনেক মজবুত। এই ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না। আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে।’

বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে ভারতীয় জেলেদের ইলিশ ধরা নিয়ে বিবাদে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে গোলাগুলিতে বৃহস্পতিবার একজন বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে কুমিল্লায় মাদক ব্যবসায়িকে ধরতে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন তিনজন র‌্যাব সদস্য ও তাদের দুই নারী সোর্স। তাদের আটক করে মারধোর করে বিএসএফ। ১০ ঘন্টা পর আহত অবস্থায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জেনারেল হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করেছেন। সেখানে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। আসলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা অনেক সময় মাঠ পর্যায়ের সৈনিকদের কাছে পৌঁছে না। এটা তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তাহলে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনা কমে যাবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল শুক্রবার বলেছেন, ‘বিজিবির তথ্যমতে পতাকা বৈঠকের অপেক্ষা না করে তারা (বিএসএফ) আটক জেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য জোরাজুরি করছিল। আর তখনই এই গোলাগুলির ঘটনা। এতে একজন বিএসএফ সদস্য মারা যান। বিজিবি মহাপরিচালক ও বিএসএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আমরা মনে করি, এটা ভুল বোঝাবুঝি থেকেই হয়েছে। দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আমরা আশা করি আলাপের মাধ্যমে একটা সুরাহা হবে।’

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চারঘাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে পদ্মা নদীতে টহল দিচ্ছিল বিজিবি সদস্যরা। এমন সময় বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে একটি ভারতীয় মাছ ধরার ট্রলার দেখতে পান তারা। ট্রলারটিসহ প্রণব মণ্ডল নামে একজন জেলেকে আটক করলেও অন্য দুই জেলে পালিয়ে যান। তারা খবর দিলে ঘটনাস্থলে হাজির হয় বিএসএফের একটি দল। সেখানে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে বিএসএফের হেড কনস্টেবল বিজয় ভান সিং (৫২) মারা যান। আহত হন কনস্টেবল রাজবীর সিং যাদব৷ তার হাতে গুলি লেগেছে। তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার একদিন পরও শুক্রবার দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। বিজিবি বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে, বিএসএফ আগে গুলি করার পর আত্মরক্ষার্থে তারা গুলি ছোড়ে। অন্যদিকে, বিএসএফের বরাত দিয়ে বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএসএফ জওয়ানরা যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন বিজিবি গুলি ছোড়ে। এতে বিজয় নিহত হন এবং রাজবীর আহত হন।

এদিকে আটক জেলে ভারতের মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী থানার সাহেবনগর ছিড়াচর এলাকার বসন্ত মণ্ডলের ছেলে প্রনব মন্ডল। তার বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় দুটি মামলা করেছে বিজিবি। শুক্রবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম এবং নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এর আগে গত ১০ অক্টোবর কুমিল্লা সীমান্তে মাদক ব্যবসায়ীদের ধাওয়া করতে গিয়ে ভুল করে ভারতের ভেতরে ঢুকে পড়েছিলেন র‌্যাবের তিন সদস্য ও তাদের দুই নারী সোর্স। র‌্যাব সদস্যরা হলেন, কনস্টেবল আবদুল মতিন, কনস্টেবল রিগেন বড়ুয়া ও সৈনিক ওয়াহেদুল ইসলাম। তাদের মারধর করে আটকে রাখে বিএসএফ। তাদের আগ্নেয়াস্ত্রও জব্দ দেখানো হয়। ১০ ঘণ্টা পর ওইদিন সন্ধ্যায় তাদের ফিরিয়ে দেয় বিএসএফ।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘র‌্যাব টহল দিতে গিয়ে ভুলে ভারতীয় সীমানায় ঢুকে গিয়েছিল। বিএসএফ তাদের তিনজনকে চোখ বাঁধা এবং আহত অবস্থায় আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। এটাও আলোচনার মাধ্যমে সুরহা হবে।’

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্কের যে ভিত্তি তাতে এই ধরণের ছোটোখাটো ঘটনায় প্রভাব পড়বে না। তবে ঘটনাগুলো অনাকাঙ্খিত। আমরা আগেও দেখেছি, বিএসএফের আচরণে একটু সমস্যা আছে। তারা সীমান্তে কাউকে দেখলেই গুলি করে। সে যদি অপরাধীও হয় তাহলেওতো গুলি করা ঠিক না। আপনি তাকে ধরে বিচারের আওতায় নেন। দুই দেশের মধ্যে এত চমৎকার সম্পর্ক সেখানে কথায় কথায় গুলি করা ঠিক? আসলে আলোচনার মাধ্যমে এগুলোর সমাধান করা উচিত।’

সূত্র: ডয়চে ভেলে

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা