kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

পাল্টা কর্মসূচি পালন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রনিতিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের অপসারণের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। অপরদিকে উপচার্য অপসারণের আন্দোলনকে বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করার ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ উল্লেখ করে মৌন মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদ চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষকদের পাশাপাশি আন্দেলন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, ছাত্র ইউনিয়ন ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক মারুফ মোজাম্মেলের সঞ্চালনায় দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের আর নৈতিক কোনো অধিকার নেই এই সম্মানিত পদে থাকার। আপনি দুর্নীতির সঙ্গে স্পষ্টভাবে যুক্ত হয়েছেন। এখন নতুন করে দলভারী করে আপনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন আপনি দুর্নীতিবাজ নন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। শিক্ষকদের সন্তানদের চাকরি আর টাকার লোভ দেখিয়ে উপাচার্য বিভিন্ন শিক্ষকদের মহাসমাবেশে যুক্ত করেছেন। উপাচার্য এসব কাজ করে ক্ষমতায় টিকতে পারবেন না।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন একই দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সংহতি সমাবেশ এবং ১৯ অক্টোবর মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

অপরদিকে বুধবার সকাল ১১টায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামকে অপসারণের আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে মৌন মিছিল ও সমাবেশ করেছে উপাচার্যপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন প্রতিহত করতে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের সদ্য গঠিত সংগঠন ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’র ব্যানারে পূর্ব ঘোষিত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই মৌন মিছিল করা হয়। মৌন মিছিলটি শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক থেকে শুরু হয়ে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর’ সংগঠনের মুখপাত্র অধ্যাপক আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা আন্দোলনকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অযৌক্তি দাবি করে বলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কল্পিত অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এটি একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়।

বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, আন্দোলনকারীদের তিন দফা দাবির দুটি দাবি উপাচার্য মেনে নেওয়ার পর কেনো তারা আন্দোলন করছেন? আন্দোলনের পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে? আলোচনার মাধ্যমে সব কিছুর যৌক্তিক সমাধান সম্ভব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আন্দোলন পরিহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে সকলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে এই সংগঠনের পূর্ব ঘোষিত তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহীদ মিনারের পাদদেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বালন এবং ২২ অক্টোবর ‘চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ ও ষড়যন্ত্রকারীদের’ বিচার দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে’র অভিযোগে প্রায় দুই মাস যাবৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করছে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। নির্মিতব্য তিনটি হলে স্থান পুনর্বিবেচনাসহ দুটি দাবি মেনে নিলেও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি মানছেন না উপাচার্য। এ কারণে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে তার পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা