kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নিজের ভাগ্নিকে অপহরণ করে টাকা দাবি, গ্রেপ্তার ২

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজের ভাগ্নিকে অপহরণ করে টাকা দাবি, গ্রেপ্তার ২

শিশু মাহিমা আক্তার লামিয়া, বয়স পাঁচ । রাজধানীর ডেমরা থানার নূর মসজিদ সংলগ্ন বাঁশেরপুল এলাকায় নানা বাড়িতে মায়ের সাথে থাকে। সে প্রতিদিন মায়ের আঁচল ধরে স্থানীয় এক মাদরাসায় প্লে-শ্রেণিতে পড়তে যায়। প্রতিদিনের ন্যায় মা লাকি আক্তার গত ৭ অক্টোবর লামিয়াকে মাদরাসায় রেখে বাসায় ফেরেন। কিছুক্ষণ পর খবর পান এক নারী নিজেকে লামিয়ার খালা পরিচয় দিয়ে লামিয়ার সাথে কথা বলতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি চান। মাদরাসা শিক্ষক তাকে কথা বলার অনুমতি দিলে ওই দিন সকাল ৯টায় মাদরাসা থেকে কৌশলে লামিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যান খালা পরিচয় দানকারী ওই নারী।

ঘটনার পরে ডেমরা থানায় লামিয়ার মা লাকি আক্তার একটি জিডি করেন। জিডির তদন্ত করতে গিয়ে ডিবি ডেমরা জোনের পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, ৭ অক্টোবর শিশু লামিয়া অপহরণের পর ডেমরা থানায় জিডি করে তার মা লাকি আক্তার। অপহরণকারীরা লামিয়ার মাকে মুক্তিপণের জন্য ৬০ লাখ টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে লাকি আক্তার ১০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে অপহরণকারীদের দেয়। এসব বিষয় আমাদের জানালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ১৪ অক্টোবর বরগুনা সদর থানাধীন ফুলঝুড়ি গ্রাম থেকে শিশু লামিয়াকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী মোছাঃ শাহিনুর আক্তার (২৬) ও মোঃ শাহীন হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেফতারের পর জানা যায় অপহরণকারী নারী লামিয়ার আপন খালা।

আজ বুধবার লামিয়ার মা লাকী আক্তার ও লামিয়াকে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টার নিয়ে আসলে অপহরণের ঘটনা সম্পর্কে লাকি আক্তার বলেন, শিশু লামিয়ার বাবা একজন বাহরাইন প্রবাসী। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস থানার হরিপুর গ্রামে। মেয়েকে নিয়ে বাবার বাসা ডেমরা থানার নূর মসজিদ সংলগ্ন বাঁশেরপুল এলাকায় থাকি। মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় প্লে-শ্রেণিতে পড়ে। ৭ অক্টোবর মাদ্রাসায় মেয়েকে রেখে বাসায় আসলে শুনতে পাই আমরা বোন পরিচয়ে এক নারী লামিয়াকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ডেমরা থানায় একটি জিডি করি। লামিয়ার বাবা প্রবাসী বিধায় তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণের জন্য ৬০ লাখ টাকা দাবি করে তাকে মোবাইল হুমকি ও ভয় দেখায় অপহরণকারীরা। এক পর্যায়ে আমি অপহরণকারীদের একটি বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠায়। মোবাইলে হুমকি ও টাকা পাঠানোর বিষয়ে পুলিশকে জানালে তারা বরগুনা থেকে আমার মেয়েকে উদ্ধার করে দুইজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত দুইজনের মধ্যে আমরা নিজের বোন রয়েছে। যে টাকার জন্য আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে।

ভিকটিম লামিয়ার মা লাকি আক্তার গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় ১৫ অক্টোবর একটি মামলা করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে সাত দিনে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ইত্যোমধ্যে শিশু লামিয়া আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে। বর্তমানে শিশু লামিয়াকে আদালত তার মায়ের হেফাজতে দিয়েছেন। -ডিএমপি নিউজ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা