kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মানবতাবিরোধী অপরাধ

সাবেক এনএসআই ডিজি ওয়াহিদুল হকের বিচার শুরু

`রংপুর সেনানিবাসে ৫ মিনিটে ৬০০ হত্যার হোতা'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৪৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাবেক এনএসআই ডিজি ওয়াহিদুল হকের বিচার শুরু

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক (ডিজি) মুহাম্মদ ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মামলাটির সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৪ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।

আজ বুধবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের এ আদেশ দিয়েছেন। বর্তমানে কারাগারে আছেন ওয়াহিদুল হক।

আদালতে প্রসিকিউটর ছিলেন জেয়াদ আল মালুম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার।

গত বছরের ২৪ এপ্রিল বারিধারা থেকে ওয়াহিদুল হককে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুর ক্যান্টনমেন্টে ৫০০ থেকে ৬০০ মানুষকে মেশিনগান দিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এনএসআই-এর এই সাবেক কর্মকর্তা ১৬ অক্টোবর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। ১৯৭০ সালের মার্চ মাসে রংপুর ক্যান্টনমেন্টে যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত সেখানে থেকে বদলি হন পাকিস্তানে। ১৯৭৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানে অবস্থানের পর ১৯৭৪ সালে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ১৯৭৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে এএসপি পদে যোগ দেন। ১৯৯৬-৯৭ সালে তিনি এনএসআই’র ভারপ্রাপ্ত ডিজি ছিলেন। ২০০৫ সালে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে কর্মজীবন শেষে তিনি অবসর নেন।

তদন্তে ওয়াহিদুল হকের বিরুদ্ধে একাত্তরে ভয়ংকর গণহত্যায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যে কয়জন বাঙালি সেনা কর্মকর্তা পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরেছিলেন, ওয়াহিদুল হক তাঁদের অন্যতম। তাঁর বিরুদ্ধে রংপুর সেনানিবাস এলাকায় পাঁচ মিনিটে প্রায় ৬০০ মুক্তিকামী বাঙালিকে হত্যার ভয়ংকর চিত্র উঠে এসেছে তদন্তে।

তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ২৮ মার্চ রংপুর সেনানিবাস ঘেরাও অভিযানে অংশগ্রহণকারী স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেন ওয়াহিদুল হক। তখন তিনি ছিলেন ক্যাপ্টেন। ঘেরাও অভিযানে আনুমানিক ৬০০ নিরস্ত্র বাঙালি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য শহীদ হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা