kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকায় হবে আরো দুই মেট্রো রেল, ব্যয় ৯৪ হাজার কোটি টাকা

বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত হবে মেট্রো রেল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ১১:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকায় হবে আরো দুই মেট্রো রেল, ব্যয় ৯৪ হাজার কোটি টাকা

যানজট কমাতে রাজধানীতে আরো দুটি মেট্রো রেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই দুটি মেট্রো রেল নির্মাণে সরকারের খরচ হবে ৯৪ হাজার কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্প দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর স্টেশন এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল ডিপো পর্যন্ত মোট ৩১.২৪১ কিলোমিটার মেট্রো রেল স্থাপনে ‘ঢাকা ম্যাস র?্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এতে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা। বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার গঠিত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।


অন্যদিকে অনুমোদিত হেমায়েতপুর-আমিনবাজার-গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কচুক্ষেত-বনানী-গুলশান-২-নতুন বাজার-ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্পে জাইকা ঋণ দিচ্ছে ২৯ হাজার ১১৭ কোটি টাকা। এই লাইনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ (আমিনবাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত) এবং সাড়ে ছয় কিলোমিটার (হেমায়েতপুর থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত) এলিভেটেড আকারে স্থাপন করা হবে। এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পটিও চলতি বছর শুরু হয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

গতকাল শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় মেট্রো রেলসহ মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে চারটি সংশোধিত। সব মিলিয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ আকারে ৬৯ হাজার ৪৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

সভা শেষে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি জানান, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) আওতায় সড়ক ও রেল উভয় সুবিধাসম্পন্ন সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী অনুশাসন দিয়ে বলেছেন, মেট্রো রেলের রুট এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যাতে অধিক জনগণ এর থেকে সুবিধা পায়। মেট্রো রেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে হাতিরঝিলের সৌন্দর্য নষ্ট করা যাবে না। আগামী দিনে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডকে (ডিএমটিসিএল) শেয়ারবাজারে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া ধানমণ্ডি ও আশপাশের এলাকার জন্য মেট্রো রেল তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি আবাসিক ভবনে আর গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ধীরে ধীরে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারে মানুষকে অভ্যন্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন থেকে যেসব সরকারি বাড়ি তৈরি করা হবে তার সব কটিতে মসকিউটো নেট থাকতে হবে, আবর্জনা ডিসপোজালের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

একনেক সভায় এক হাজার ৪৮৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের বেগমগঞ্জ থেকে সোনাপুর পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ডোমার-চিলাহাটি-ডাউলাগঞ্জ, ডোমার (বোড়াগাড়ী)-জলঢাকা (ভাদুরদরগাহ) এবং জলঢাকা-ভাদুরদরগাহ-ডিমলা জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ৭৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ-চামড়াঘাট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণসহ ছয়না-যশোদল-দৌদ্দশত বাজার সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প, ১৭১৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত), ১০৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প, ১২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার আজিমপুরে বিচারকদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন (মুহুরি সেচ প্রকল্প) প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত), ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিরসনে সিলেট বন বিভাগে পুনঃ বনায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা