kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানের সরে যাওয়া উচিত : তাপস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৮:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানের সরে যাওয়া উচিত : তাপস

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া বা গ্রেপ্তার না করায় দুদক চেয়ারম্যানের তীব্র সমালোচনা করেছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি। 

তিনি বলেছেন, দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন যে, তিনি কোনো প্রভাবের কারণে ব্যবস্থা নেননি। তাহলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে তার অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত, তিনি যদি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হন। আর যদি উনি মনে করেন যে, তিনি কোনো প্রভাব দ্বারা বা কারো কথায় প্রভাবিত হবেন না, তাহলে অবশ্যই  জাতি মনে করে, আমরা মনে করি শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। 

সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন সরকার সমর্থক আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপস। গত ৫ অক্টোবর আইনজীবী পরিষদের এক সভায় প্রথম বাচ্চুর বিরুদ্ধে কথা বলেন ব্যারিস্টার তাপস। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সভায় বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বলেই যাচ্ছেন। এ অবস্থায় আজ সোমবার দুপুরে সাংবাদিকরা এ বিষয় নিয়ে ব্যারিস্টার তাপসের অভিমত জানতে চান। তার জবাবে ব্যারিস্টার তাপস বলেন, সরকার দুর্নীতি বিরোধী যে অভিযান পরিচালনা করছে তা সফল করতেই আমি বারবার এ কথা বলছি। 

ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, আমরা বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাতেও দেখেছি, তদন্তপূর্বক দেখেছি বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে ফিনান্সিয়াল সেক্টরে, ব্যাংকিং সেক্টরে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেটার মুল ব্যক্তি হলেন তৎকালীন বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। যার কারণে সরকার তাকে সেই পদ থেকে অপসারণ করেছে। কিন্তু আজ অবধি বেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত যতগুলো দুর্নীতির মামলা হয়েছে, তাতে শুধুমাত্র কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করেছি কয়েকদফা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে আজ অবধি কোনো দুর্নীতির মামলা করা হয়নি। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি বিরোধী শুদ্ধি অভিযান আরম্ভ করেছেন, সে প্রেক্ষিতে দুদকের এ বিষয়ে জবাবদিহীতা থাকাটা আবশ্যকীয়। কেন এখন পর্যন্ত আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাপারে কোনো মামলা করা হয়নি? তার বিরুদ্ধে কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা জাতি জানতে চায়।

এদিকে ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেছেন, দুদক চেয়ারম্যান পদত্যাগ করবেন কীনা সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সাহেবের বক্তব্যটা আমরা এপ্রিশিয়েট করছি। উনি চাচ্ছেন বেসিক ব্যাংকের চার্জশিট (অভিযোগপত্র) হোক। একজন সাংসদ হিসেবে বা একজন নাগরিক হিসেবে একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে উনি এটা চাইতেই পারেন। 

দুদক আইনজীবী বলেন, কিছুদিন আগে চেয়ারম্যান সাহেব বলেছিলেন এখানে ৪ হাজার কোটি টাকার বিষয়। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকী অনেক টাকা উদ্ধার হওয়ার পথে। 

তিনি বলেন, এবিষয়ে ৫৬টি মামলা হয়েছে। আরও কিছু হচ্ছে। চার্জশিটে আবদুল হাই বাচ্চুর নাম থাকবে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনার সংযুক্তি থাকলে অব্যশই হওয়া উচিত। যদি বিশ্বাসযোগ্য এভিডেন্স থাকে তাহলে অবশ্যই আসবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা