kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ নভেম্বর ২০১৯। ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভোটের নামে ভোট জালিয়াতির উৎসব হয়েছে : রিজভী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভোটের নামে ভোট জালিয়াতির উৎসব হয়েছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ঝিনাইদহের মহেষপুর ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়াতে ভোটের নামে প্রকাশ্যে ভোট জালিয়াতির উৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনকে এই বিষয়ে অবহিত করলে তারা দেখছি বলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। যারা ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতের নির্বাচন করে তাদের কাছ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা অরণ্যে রোদন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরকারের যাদুর বাক্সে পরিণত হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। মহেষপুরে প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। একই অবস্থা সাতকানিয়াতেও। এই দুই উপজেলাতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সাথে পাল্লা দিয়ে পুলিশও ভোটারদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে যে সমস্ত ভোটাররা জাতীয় নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভোট দিয়েছে তাদেরকে ভোটার তালিকায় এখন মৃত দেখানো হচ্ছে। এই যাদুকর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের অধীনে নির্বাচনে প্রকৃত ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই।

রিজভী বলেন, সব ধরনের ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেওয়াটা গভীর মাস্টারপ্লানেরই অংশ। ছাত্র রাজনীতিকে যারা কলুষিত করেছে, মারামারি-দলাদলিকে যারা উৎসাহিত করেছে, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারে যারা মদদ দিয়েছে তারাই প্রকৃত ছাত্র রাজনীতিকে মানুষের চোখে হেয় করেছে। তারাই এখন সমগ্র ছাত্র রাজনীতিকে বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও শহীদ মিনারে ছাত্রী লাঞ্ছনার মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগ তাদের যাত্রা শুরু করে। তাদের উত্তরসূরিরাই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে হলে প্রচলিত বিধিবিধানকে তোয়াক্কা না করে নিষ্ঠুর ও সর্বনাশা নির্যাতন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের ছত্রছায়ায়।

তিনি বলেন, হলে হলে টর্চার সেল গঠিত হয়েছে। একের পর এক ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ দ্বারা শিক্ষার্থী খুনের ঘটনা ঘটছে। এর ভয়ঙ্করতম রূপ দৃশ্যমান হলো মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। তাকে মারধরের খবর পেয়ে একজন পুলিশ উপ-পরিদর্শক সেখানে ছুটে গেলে ছাত্রলীগ নেতাদের বাধার কারণে তিনি কিছুই করতে পারেননি। ছাত্রলীগকে এই কয়েক বছরে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে তারা কোনো এথিকসের ধার ধারেনি। এই কদাচারের জন্য সমগ্র ছাত্রসমাজ বা ছাত্র রাজনীতি দায়ী হতে পারে না।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সপু, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা