kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

কে এই অভি, সূর্যসেন হলের ‘বড়’ ভাই?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কে এই অভি, সূর্যসেন হলের ‘বড়’ ভাই?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্যসেন হলের একটা অডিও ক্লিপ থেকে চলতি বছরের শুরুর দিকে ছাত্রদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অডিও ক্লিপটিতে বারবার উচ্চরিত হয়েছে একটি নাম আরাফাত হোসাইন অভি।

ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যমকে বলেছেন, কথিত বড় ভাইদের কথা না শুনলে গেস্ট রুমে ডেকে নিয়ে নানাভাবে তাদের হেনস্থা করা হয়। কখনো কখনো শারীরিক নির্যাতনও হয়। সূর্যসেন হলের ঘটনায় অভিযুক্ত এক ছাত্রলীগ কর্মী বললেন, ছোটদের আদব কায়দা শেখাতেই তারা গেস্ট রুম করান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের মতো এ হলেও গেস্টরুমের নামে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। হলের ভেতরে আছে কয়েকটি অন্ধকারচ্ছন্ন কক্ষ। যেগুলোকে বলা হচ্ছে গণরুম। কক্ষটিতে ধারন ক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুন বেশি ছাত্র থাকছে।

সূর্যসেন হলের গেস্টরুমে কথিত বড় ভাইদের শাসনের অডিওতে শোনা গেছে, ও আমারে দেখে পিছনে ফিরে গেছে। মার ওরে মার। ক্যাম্পাসে তোর বড় ভাই বন্ধু থাকলে জিজ্ঞেস করিস সূর্যসেন হলের অভি কে। ওরে মার।

ভুক্তভোগী একজন শিক্ষার্থী বর্ণনা করছিলেন সেদিনের ঘটনা। বলছিলেন কীভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে তাদের বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘স্ট্যাম্প এনে বসতেন। গালমন্দতো করতো সেটা ভিন্ন হিসাব। রাতে হল থেকে বের করে দিত। পুরো রাত হলের বাইরে থাকতে হতো।’

সূর্যসেন হলের গেস্ট রুমের যে অডিও ক্লিপটি পাওয়া গেছে। তাতে বারবার উঠে এসেছে একটি নাম। আরাফাত হোসাইন অভি। পদে না থাকলেও দ্বিতীয় বর্ষের অভি ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী। শুধু এ ঘটনা নয়, তার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্রদের নির্যাতনের আরও কয়েকটি অভিযোগ আছে। গেস্ট রুম করানোর কথা স্বীকার করলেও তার মতে এটা কোনো অপরাধ নয়।

অভি বলেন, ‘দেখি ওরা কীভাবে চলে ফেরে। ওদের কোনো সমস্যা থাকলে সেটা সমাধান করি। তবে কাউকে মারা হয়নি।’

শুধু সূর্যসেন হল নয়, জিয়া হলেও নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী এক ছাত্র জানান, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি হল ছেড়েছেন। থাকতেন জিয়া হলের ১১০ নম্বর কক্ষে। যে কক্ষটিকে শিক্ষার্থীরা নাম দিয়েছেন ‘আবু গারিব’ (ইরাকের কুখ্যাত কারাগারের নাম)।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বিড়ালের মত নিচের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতাম। ওরা খাটের উপর বসে থেকে কাউকে লাথি, কাউকে চড়, কাউকে থাপ্পড় দিতে থাকে।’

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ তার হলের ঘটনা স্বীকার না করলেও বলছেন, ‘লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করাই এর একমাত্র সমাধান।’

জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিয়া রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ভিকটিম সাধারণ ছাত্ররা।  লেজুড়ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতির সলিল সমাধি হওয়া উচিত।’

শুধু এ সরকারের আমলেই নয়। আগের সরকারের আমলেও ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ ছিল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা