kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রংপুর মেডিক্যালে কেনাকাটায় লুটপাট

দুদকের মামলায় একজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুদকের মামলায় একজন গ্রেপ্তার

রংপুর মেডিক্যাল কলেজে (রমেক) যন্ত্রপাতি কেনার নামে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কম্পানির মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ কামরুল আহসানকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সরকারের চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় তাকে তোপখানা রোড এলাকা থেকে গতকাল রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক সাইদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

দুদক সূত্র জানায়, রমেকে কেনাকাটায় দুর্নীতির অভিযোগে গত ১২ সেপ্টেম্বর দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করেন উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান। মামলায় কলেজটির অধ্যক্ষসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। আসামি করা হয় অধ্যক্ষ মো. নূর ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক সারোয়াত হোসেন, বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, তাঁর বাবা ও মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবদুস সাত্তার সরকার, ছেলে আহসান হাবীব এবং ভগ্নিপতি ও ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমানকে। গ্রেপ্তার হওয়া সৈয়দ কামরুল আহসান এজাহারভুক্ত আসামি না হলেও তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দুদক সূত্র জানায়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, রমেকে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সেসব কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অধ্যক্ষ নূর ইসলাম বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করেন। যথাযথ চাহিদাপত্র ও নমুনা ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করেন এবং পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যালকে কার্যাদেশ দেন। ২০১৮ সালের ২১ জুন দরপত্র মূল্যায়ন করে একই তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ‘নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড’ দেন এবং চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ২৩ জুন কার্যাদেশ দেন। 

যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করলেও কার্যাদেশ পাওয়ার পঞ্চম দিনেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বিল জমা দেয়। অধ্যক্ষ ওই দিনই তা পাস করে প্রশাসনিক মঞ্জুরি পাওয়ার আগেই জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠিয়ে দেন। এভাবে কম্পানির মালিক জাহের উদ্দিনকে সরকারের চার কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৩০০ টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেন।

এই মামলার আসামি বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যালের মালিক জাহের উদ্দিন, মার্কেন্টাইল ট্রড ইন্টারন্যাশনালের মালিক আবদুস সাত্তার (জাহের উদ্দিনের বাবা) এবং ইউনিভার্সেল ট্রেড করপোরেশনের মালিক আসাদুর রহমান (জাহের উদ্দিনের ভগ্নিপতি) দুদকের করা আরেকটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা