kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

শিশু সংলাপে আইনমন্ত্রী

আবরার হত্যা অত্যন্ত মর্মান্তিক, সমাজে এটা হওয়া উচিত নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আবরার হত্যা অত্যন্ত মর্মান্তিক, সমাজে এটা হওয়া উচিত নয়

ছবি : পিআইডি

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (বুয়েট) নিহত আবরার হত্যা মামলা যতটুকু অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার সম্পন্ন করা উচিত ততটুকুই অগ্রাধিকার দেবে সরকার। কারণ সমাজে এরকম অপরাধ হোক তা চান না জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার।

তিনি বলেন, আবরার হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের সমাজে এটা হওয়া উচিত নয় এবং এটা যাতে আর না হয় সেরকম বিচারিক ব্যবস্থা নেবে সরকার। আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সহযোগিতা চাইলে তাকে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। সে যদি মনে করে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা দরকার নিশ্চয়ই সরকার সেটা ভেবে দেখবে।

আজ রবিবার জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৩০ বছর পূর্তি ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত শিশু সংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

‘আজকের শিশু আনবে আলো, বিশ্বটাকে রাখবে ভালো’ শ্লোগানকে সামনে রেখে রবিবার দুপুরে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এই সংলাপ হয়। চাইল্ড পার্লামেন্টের স্পিকার মারিয়াম আক্তার জিম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, সেফ দ্যা চিল্ড্রেন-এর পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিশু প্রতিনিধদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী।

র‌্যাগিং প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি একটি অপরাধ। র‌্যাগিং এর শিকার হলে শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকের কাছে নালিশ করুন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, এক সেকেন্ডই একজন মানুষকে খুন করা যায় (যেমন গুলি করে)। কিন্তু তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় সাজা দিতে হলে সময় লাগে। তিনি বলেন, অত্যন্ত অল্প সময়ে আইনি সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাজন হত্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সুরাইয়া আক্তার রিশা হত্যা মামলার রায় হয়ে গেছে। আগামী ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় হবে। কিছু দিনের মধ্যেই হাজী রমিজ উদ্দিন স্কুলের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় হত্যা মামলার রায় হবে। এ ধরণের অপরাধগুলোকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে বিচার করছে।

তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বহুদিন আগে বুয়েটে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছিল তার বিচার কিন্তু আজ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। সেটার দাবিও আপনারা তোলেন। সরকার সে বিচারও করবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, শিশুরাই উন্নয়নের চাবিকাঠি, শিশুরাই জাতি গঠনের মূল ভিত্তি। শিশুদের জীবনে ভালো একটি শুরু তাদের পরিণত বয়সে সমৃদ্ধি বয়ে আনে যার প্রভাব পড়ে পুরো জাতির উপর। অর্থাৎ শিশুদেরকে সমতা এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর নির্ভর করছে আমাদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যত।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সাড়ে তিন বছরের সরকারে শিশুদের অধিকার, কল্যাণ, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮৯ সালে ‘শিশু অধিকার সনদ’ গ্রহণ করে। এর অনেক আগেই জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে শিশু আইন প্রণয়ন করেন। জাতির পিতা প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ এবং অবৈতনিক ঘোষণা করেন। মুক্তিযুদ্ধে যে সব নারী ক্ষতিগ্রস্থ হন তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য জাতির পিতা বৃত্তি প্রথা চালু করেছিলেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতার দেওয়া মহান সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে শিশুদের জন্য রাষ্ট্রকে বিশেষ বিধান প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এবং শিশু আইন অনুযায়ী শিশুদের কল্যাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের কল্যাণে যে ধরনের পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নেওয়া প্রয়োজন তা সরকার ইতোপূর্বে যেমন নিয়েছে, আগামীতেও নিতে থাকবে।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধীকে সাজা দেওয়া হচ্ছে আইনের কাজ। এটা সমাজেরও চাহিদা। যদি কোনো অপরাধে কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সে আসামি বিদেশে পালিয়ে যায় তবে তাকে অনেক ক্ষেত্রে দেশে ফিরে আনা যায় না। সে জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন সাজার বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রেও আসামি মনে করবে অপরাধ করলে আমাকে যাবজ্জীবন জেলে থাকতে হবে এটাও বড় শাস্তি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা