kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

বরিশাল অফিস   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৯:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত

বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ শূন্য থকায় আগামী ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষা স্থাগীত করেছে কতৃপক্ষ। আজ রবিবার বিকেলে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কোর কমিটির সদস্য ডা. মো. মুহসিন উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৮ ও ১৯ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল বিশ্ব বিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা  অনিবার্য কারণবশত সময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা পুনঃনির্ধারিত তারিখ পরবর্তীতে যথা সময়ে বিশ্ব বিদ্যালয়ের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে জানানো হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র জানান, তিনটি ইউনিটে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) কোর্সের প্রথমবর্ষে ভর্তি আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিলো। ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রায় দেড় হাজার আসনের অনুকূলে আবেদন জমা পড়েছে ৪০ হাজারের বেশি।

উপাচার্য কিংবা ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার ছাড়া এই ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কারণ প্রশ্নপত্র তৈরিসহ বেশ কিছু আনুষ্ঠনিকতা রয়েছে। যা উপাচার্য ছাড়া সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আগামী ১৮ এবং ১৯ তারিখের ভর্তি পরীক্ষা স্থাগিত করা হয়েছে। আগামী উপাচার্য নিয়োগ হওয়ামাত্র ভতি পরীক্ষার সময় সূচি তৈরি করা হবে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের স্থাগীত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমন আশা করছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে চা চক্রের আয়োজন করেন উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানালে উপাচার্য তাঁদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেন। এর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য ইমামুল হককে ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এই সময়কালে ট্রেজারার এ কে এম মাহবুব হাসান নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন বলে আদেশে বলা হয়। একই দিন (২৬ মে) উপাচার্যের কার্যকালের মেয়াদও (চার বছর) শেষ হয়েছে। সেই থেকেই ট্রেজারার মাহবুব উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত সোমবার ট্রেজারার পদে তাঁর মেয়াদও শেষ হয়েছে।

এছাড়া  নৈতিক স্খলনের দায়ে গত ৯ এপ্রিল রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ড. হাসিনুর রহমান ছুটি নিয়ে ১১ মে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এর পর থেকে সহকারী রেজিস্ট্রার সানজিয়া খানম রুটিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনিও আগস্ট মাস থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর পরিবর্তে আরেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মিলন ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ ছাড়া গত সপ্তাহে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এ কে এম ফজলুল হকের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিনের পদ জুন মাস থেকেই শূন্য। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য ওই দুটি পদের দায়িত্বে ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা