kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আবরার পদচারী সেতু

‘ফাঁকপথে’ প্রাণ হাতে পারাপার!

পার্থ সারথি দাস    

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ফাঁকপথে’ প্রাণ হাতে পারাপার!

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় পদচারী সেতু থাকার পরও পথচারীরা দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হন। সিটি করপোরেশন ও ট্র্যাফিক পুলিশ সড়ক বিভাজকের ওপর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলেও তাতে ফাঁক তৈরি করে তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত চলাচল করতে চান। তাতে দ্রুতগতিতে আসা বাস বা অন্য কোনো গাড়ির চালককে সতর্ক চোখ রাখতে হয়। না হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। যারা পদচারী সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করেন তারাও নিচের রাস্তায় দৌড় দিয়ে পারাপার হতে থাকা পথচারীদের পারাপারের ভয়ানক দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হন। 

প্রগতি সরণী সড়কে যমুনা ফিউচার পার্কের অদূরে গত ১৯ মার্চ বাসচাপায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবরার আহমেদ চৌধুরীর প্রাণ যায়। তারপর গড়ে ওঠে নিরাপদ সড়কের আন্দোলন। তার প্রেক্ষিতে দাবি অনুসারে, পাঁচ মাসের মাথায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পদচারী সেতু চালু করেছে। সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় পথচারীদের চলাচলের চাপে এ পদচারী সেতুর ওপরই বিশৃংখল অবস্থা তৈরি হয়। পদচারী সেতুটি চালুর পরও নিচের রাস্তায় বিভাজকের ওপর প্রতিবন্ধকতায় ফাঁক তৈরি করা হয়েছে। 

আজ দুপুর তিনটা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত এই সেতুর ওপর থেকে দেখা গেছে, তরুণ, তরুণী, যুবক এমনকি বৃদ্ধরাও রাস্তার দুই লেনের চলন্ত গাড়ির ফাঁক দিয়ে নিজের শরীরটি নিয়ে কোনো রকমে একটু একটু করে এগুচ্ছিলেন। তারপর বিভাজকে তৈরি করা ফাঁকপথে অন্য লেনে চলন্ত গাড়ির সামনে দিয়ে ফুটপাথে অবস্থান নিচ্ছেন। কেউ আবার দৌড় দিয়েও পার হন। 

পদচারী সেতু থাকার পরও এভাবে পার হতে থাকা নওরোজ আহমেদ বলেন, সেতুর ওপর ভিড় । তাই দ্রুত চলতে গিয়ে নিচ দিয়ে দৌড়াতে হয়। এভাবে পার হলে জরিমানা আদায়ের বিধানও রয়েছে। তবে ট্র্যাফিক পুলিশের সার্জেন্টরা এ বিষয়ে ছিলেন নির্বিকার। 

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের তথ্যানুসারে, ঢাকার সড়কে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের ৪৭ শতাংশই পথচারী। 
ইন্সটিটিউটের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুন নেওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ সকাল ১০টার দিকে রামপুরা থেকে গাড়িতে এই পদচারী সেতু অতিক্রম করার আগে দেখেছি-৬০ শতাংশ পথচারী পদচারী সেতুর ওপর দিয়ে চলছেন। আর ৪০ শতাংশই নিচের সড়কের ওপর দিয়ে একটু জায়গা দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। আমি সঙ্গে সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপারেশনের সংশ্লিষ্ট একজন প্রকৌশলীকে ফোন করে বিষয়টি অবহিত করি। তিনি জানান, ব্যারিয়ার বা প্রতিবন্ধক দিয়েও ফল হচ্ছে না। 

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে প্রায় দেড় মাস আগে চালু করা হয়েছে আবরার পদাচারী সেতু। এটি চালুর 
অবশেষে নিরাপদ হলো অসংখ্য মানুষের নিরাপদ চলাচল। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে থেকেই সেতু দিয়ে মানুষের পারাপার শুরু হয়েছিল স্থাপনাটির কিছু কাজ বাকি থাকা অবস্থায়ই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আবরারের প্রাণহানির পর এই পদাচারী সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন নিহত আবরারের নামে এই স্থাপনাটির নামকরন করা হবে। এটি নির্মাণ করে চালু করতে রাজধানীর অন্যান্য পদচারী সেতুর চেয়ে কম সময় লেগেছে। নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়। 

প্রগতি সরণীর এ অংশে কোনো মোড় বা ক্রসিং নেই। এলাকার যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো বিপুল সংখ্যক মানুষের রাস্তা পারাপারের জন্য। গত ২০ মার্চ আবরারের নামে সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এটি নির্মাণের পর সড়কের বিভাজকে উঁচু বেড়া দেওয়া শুরু হয়েছিল। আজ অফিস ছুটির আগে থেকেই এই সেতুতে পথচারীদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। পদচারী সেতু দিয়ে ভিড় ঠেলে চলতে চলতে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিল আহমেদ বলেন, ১২ বছর আগেই এ ধরনের স্থাপনা তৈরি করা উচিত ছিল। 

দুই পাশের দুইটি সিঁড়ির কাজ শেষ করেই খুলে দেয় সেতুটি। প্রতি পাশে একটি সিঁড়ি দিয়ে উঠা-নামা করতে হচ্ছে। ফলে পথচারীদেরকে সারিবদ্ধ হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এই সেতুর কাজ শতভাগ শেষ করতে পারেনি ডিএনসিসির প্রকৌশল দপ্তর। ডিএনসিসির প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আবরার আহমেদ পদচারী সেতুর দুই পাশে দুটো চলমান সিঁড়ি (এসকেলেটর) বসানো হবে। এগুলো বিদেশ থেকে আনতে হবে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে দুইটি সিঁড়ি দিয়ে পথচারীরা ব্যবহার করতে পারবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা