kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ভয় নয়, ভাইয়া নাই তাই ঢাকা যাওয়া হবে না: আবরারের ভাই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৬:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভয় নয়, ভাইয়া নাই তাই ঢাকা যাওয়া হবে না: আবরারের ভাই

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর তার একমাত্র ছোট ভাই আবরার ফায়াজ আর ঢাকায় পড়তে চায় না। শনিবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান তিনি। আবরার ফায়াজ ঢাকা কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আবরার ফায়াজ বলেন, ‘আমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক ছিল। ও ছিল আমার অভিভাবক। ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক এমন ছিল যে মা–বাবার কথা তেমন মনেই হতো না।’

আবরার ফাহাদ যেদিন (রবিবার) কুষ্টিয়ার পিটিআই সড়কের বাড়ি থেকে চলে যান, সেদিন সকালে ঘুমিয়ে ছিলেন জানিয়ে ফায়াজ বলেন, ‘ভাই যাওয়ার সময় মা ডেকেছিল। কিন্তু শুয়েই ছিলাম। তারপরও ভাই বলল, তাড়াতাড়ি ঢাকায় চলে আসবি। এটাই ছিল ভাইয়ের সঙ্গে আমার শেষ কথা ও দেখা।’

পড়াশোনার বিষয়ে ফায়াজ বলে, ‘কলেজে (ঢাকা কলেজ) আর যাব না। কোনো ভয় না, আসলে সত্যি কথা যেটা, ঢাকাতে নিয়ে যাওয়া-ভর্তি, সব ছিল ভাইয়ের ইচ্ছায়। ও সব কেয়ার করত। রুমে পানি না থাকলে ভাইই দিত। ও-নেই, সেখানে কী করে থাকব।’

ফায়াজ আরও বলে, ‘ভাই ছিল, দুজন ছিলাম। এখন একা। ঢাকা আর না, কুষ্টিয়াতে পড়াশোনা করব। এটাই পরিকল্পনা।’

ভারতকে ফেনী নদীর পানি দেয়া নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার জেরে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে গত রবিবার (৬ অক্টোবর) রাতে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। এরপর রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের নিচতলা ও দোতলার সিঁড়ির করিডোর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আবরার হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটের শিক্ষার্থীরা প্রথমে ১০ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামেন। গতকাল শুক্রবার বুয়েট অডিটোরিয়ামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। তিনি সে সময় ঘোষণা দেন, বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি থাকবে না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ১৯ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘোষণা দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা