kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

উর্দুভাষী সংখ্যালঘুদের মতবিনিময় সভা বক্তারা

জেনেভা ক্যাম্প উচ্ছেদের অপতৎপরতা চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২০:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জেনেভা ক্যাম্প উচ্ছেদের অপতৎপরতা চলছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প উচ্ছেদের পায়তারা করছে স্থানীয় প্রভাশালী নেতারা। জায়গা দখল করে নিজেদের করতে উঠে পড়ে লেগেছে তারা। যাদের মধ্যে অন্যতম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান। যার ইশারায় বিদ্যুৎ সংযোগ ও রাস্তা প্রসারিত করার নামে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন। এমন অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের উর্দুভাষী সংখ্যালঘু নেতারা। আজ বুধবার বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসের চৌধুরী মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।

গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনরত জেনেভা ক্যাম্পের উর্দুভাষী সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন ‘উর্দু স্পীকিং পিপলস ইউথ রিহ্যাবিলিটেশন মুভমেন্ট (ইউএসপিওয়াইআরএম)’।
অনুষ্ঠানে ইউএসপিওয়াইআরএমের সভাপতি সাদাকাত খান ফাক্কুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরোর মহাসচিব ড. মোহাম্মদ শাহজাহান ও ক্যাম্পের নেতারা।

ড. মেজবাহ কামাল বলেন, ‘সমস্যাটা বিদ্যুতের নয়! সমস্যাটা হচ্ছে আপনারা যে জায়গায় থাকেন সেই এলাকার (মোহাম্মদপুর, মিরপুর) জমির দাম অনেক বেশি। তাই ক্যাম্পের লোকজনকে উচ্ছেদ করতে পারলে জায়গা দখল সহজ হবে। আর এ সমস্ত দখলবাজির কাজ সবসময় সরকারি দলের লোকজনই করে থাকে। আমি নিশ্চিত মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্পের লোকদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা করছেন স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান।’

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘জেনেভা কনভেনশন চুক্তি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৩টি উর্দুভাষী জেনেভা ক্যাম্পের বিদ্যুৎবীলসহ সব দায়িত্ব নেওয়ার কথা সরকারের। উচ্চ আদালতের রায় উপেক্ষা করে যখন বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নিতে আসে সেটা ধরে নিন উৎখাতের চেষ্টা। বিদ্যুৎ হচ্ছে বাহানা।’

সভাপতির বক্তব্যে ইউএসপিওয়াইআরএমের সভাপতি সাদাকাত খান বলেন, ‘৫ তারিখের হামলা হয়েছিলো আমাদের উৎখাতের জন্য। বিদ্যুতের বিষয়টি ছিলো উচিলামাত্র। আমাদের দাবি নিয়ে বসেছিলাম, যারা সে আন্দোলনে ছিলো তারা এখন বাসায় থাকতে পারছে না। আগামী তিন দিনের মধ্যে ক্যাম্পে বসবাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হবে। যদি না করা হয় তবে প্রশাসনের কাছে ধরণা দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরুষহীন হয়ে পড়েছে জেনেভা ক্যাম্প। পুরুষ ছাড়া ক্যাম্পে থাকা মা বোনেরা না খেয়ে দিন পার করছে। দোকানগুলোও খুলতে দেওয়া হচ্ছে না। এমন কেন? যারা অন্যায় করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হোক।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা