kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ছাত্রদলের কাউন্সিলে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রদলের কাউন্সিলে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। সংগঠনের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ৪৮১ জন কাউন্সিলর তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। গতকাল বুধবার রাজধানীর শাহজাহানপুরে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় রাত পৌনে ৯টায় ভোট শুরু হয়ে চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভোট গণনা চলছিল।

১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারিত থাকলে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার চতুর্থ জজ আদালতে সংগঠনের সাবেক কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আমান উল্লাহ মামলা দায়ের করেন। ফলে আদালত কাউন্সিলের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

ফলে নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিল করতে পারেনি সংগঠনটি। তবে কাউন্সিলের সঙ্গে জড়িতরা আন্তরিক থাকায় দ্রুত এটি শেষ করার পদক্ষেপ নেন, যার অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার দুপুরে কাউন্সিলররা বৈঠক করেন। সেখানে সংগঠনটির নিয়ম মেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাংগঠনিক অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেন। তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাও বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সব কাউন্সিলরকে বুধবার বিকেল ৫টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে কাউন্সিলের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হলেও পরে স্থান পরিবর্তন করা হয়।

সূত্রগুলো বলছে, ওই স্থানে কাউন্সিল করতে গেলে সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহার করে তা বানচালের চেষ্টা করতে পারে। তাই দ্রুত মির্জা আব্বাসের বাসায় এই কাউন্সিলের জন্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় সব প্রার্থীকে নিয়ে স্কাইপে বৈঠক করেন তারেক রহমান। পরে সবার মতামতের ভিত্তিতে স্থান পরিবর্তন করা হয়। ব্যালট পেপার, ভোট বাক্সসহ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র আগে থেকে তৈরি থাকায় বিকেলেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

মির্জা আব্বাসের বাসার মূল ফটকের ভেতরের আঙিনায় কাউন্সিলর ও প্রার্থীদের বসার জায়গা করে দেওয়া হয়। ভেতরে স্থাপন করা হয় চারটি ভোটকেন্দ্র। দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার বুঝে নিয়ে কাউন্সিলররা ভোট বাক্সে পেপার ফেলেন। একজন একজন করে কাউন্সিলরদের মূল কেন্দ্রে ঢোকানো হয়। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানোর পর ব্যালট দেওয়া হয়। ভোট শুরু হওয়ার আগে স্কাইপে তারেক রহমান কাউন্সিলরদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলার নেতা রায়হান শরিফ, ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ অনুসহ বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের সঙ্গে আলাপকালে তাঁরা জানান, নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে তাঁরা ভোট দিতে পেরেছেন। কারো পক্ষ থেকে কোনো রকম চাপ ছিল না। সুষ্ঠুভাবে ভোট করার জন্য চারটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয় বলেও জানান তাঁরা।

ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোট প্রার্থী ছিলেন ২৮ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক ১৯ জন। সভাপতি পদের প্রার্থীরা হলেন ফজলুর রহমান খোকন, হাফিজুর রহমান, মামুন বিল্লাহ (মামুন খান), সাজিদ হাসান বাবু, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মো. এরশাদ খান, মাহমুদুল আলম সরদার ও কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন মো. শাহনেওয়াজ, আমিনুর রহমান আমিন, জাকিরুল ইসলাম জাকির, তানজিল হাসান, কারিমুল হাই নাঈম, মাজেদুল ইসলাম রুমন, ডালিয়া রহমান, শেখ আবু তাহের, সাদিকুর রহমান, কে এম সাখাওয়াত হোসাইন, সিরাজুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন শ্যামল, জুয়েল হাওলাদার, মুন্সি আনিসুর রহমান, মিজানুর রহমান শীরফ, শেখ মো. মসিউর রহমান রনি, মোস্তাফিজুর রহমান, সোহেল রানা ও কাজী মাজহারুল ইসলাম। ছাত্রদলের ১১৭টি ইউনিটের ৫৩৩ জন কাউন্সিলর ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা