kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সভায় নেতৃবৃন্দ বললেন

এনআরসি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য বিশাল হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এনআরসি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য বিশাল হুমকি

আসামে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য বিশাল হুমকি বলে মনে করছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃবৃন্দ। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ মুক্তিভবনে অনুষ্ঠিত জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

বাম জোটের সমন্বয়ক ও ইউসিএলবির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বলা হয়, গত ৩১ আগস্ট ভারতের বিজেপি শাসিত আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জ বা এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষকে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি অমিত শাহসহ ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ পশ্চিম বাংলায়ও এনআরসি করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য বিরুদ্ধমতাবলম্বী ও ভারতীয় মুসলমানদের অনুপ্রবেশকারী ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো। সে কারণে আসামে নাগরিকপঞ্জি করতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চকে ভিত্তি ধরা হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদী ক্ষমতাসীন বিজেপি এনআরসি ঘোষণার মাধ্যমে এক ঢিলে দুই পাখি মারার কাজ করতে চায়। তারা নিজের দেশে বিরুদ্ধমতাবলম্বীদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে আসাম রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় নিরংঙ্কুশ করতে চায়। অপরদিকে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যে এনআরসি করে বাদ পড়াদের অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে চায়। অথচ এই অপরাজনীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার নরম প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে ভাবছেন এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ওতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হবে না।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার যাই ভাবুক না কেন এনআরসি বা ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য বিশাল হুমকি। এটা রোহিঙ্গা সমস্যার ন্যায় বাংলাদেশে জন্য একটা নতুন শরণার্থী সংকট তৈরি করবে। নেতৃবৃন্দ ভারতের এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকারকে সচেষ্ট হওয়ার এবং জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। 

সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদ (মার্কসবাদী)’র মানস নন্দী, বাসদ-এর খালেকুজ্জামান লিপন, গণসংহতি আন্দোলনের মনিরউদ্দিন পাপ্পু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মমিনুর রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বহ্নি শিখা জামালী, বাচ্চু ভূঁইয়া প্রমূখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা