kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের জের

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান শুরু

লায়েকুজ্জামান   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৭:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান শুরু

ছবি : কালের কণ্ঠ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূ-সম্পদ অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করার জন্য ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে সংস্থাটি। আজ মঙ্গলবার পাউবো’র উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উত্তরার আব্দুল্লাহপুর মৌজার রেলওয়ে গেট থেকে অভিযান শুরু করা হয়। 

গত ১৬ সেপ্টেম্বর  কালের কণ্ঠে  ‘উত্তরা-তুরাগে পাউবোর জমিতে থাবা-৩২৫ একর জমিতে ৭৩১ দখলবাজ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন ছাড়াও ‘হীরামনের সাফ কথা আমি দখল করে খাই-পাউবোর জায়গা সিবিএ নেতাদের টাকা দিয়ে দখলে নিয়েছি’ ও ‘বছরে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে পাউবোর জায়গা খান বাবু’ শিরোনামে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই সব প্রতিবেদন পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে, রাজধানী শহরের চার পাশে নিজস্ব সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের সিন্ধান্ত নেয় পাউবো। 

আজ সকালে উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতে আবদুল্লাহপুর রেলওয়ে গেট এলাকায়  পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী অখিল কুমার বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, অবৈধ দখলে থাকা সব সম্পত্তি দখলমুক্ত করার অভিযান শুরু করেছে পাউবো। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে-অভিযান চলবে টানা ৬ দিন।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আইনুল হক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার মিজানুর রহমান শেলী উচ্ছেদ অভিযানের তদারকি করেন। নির্বাহী ম্যাজিজট্রেট ছিলেন রিফাত ফেরদৌস।
 
ঢাকা শহরের পাশ ঘেষে নির্মিত বেড়িবাধের উত্তরার আবদুল্লাহপুর রেলওয়ে গেট থেকে সদরঘাট এলাকা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৫৮৭ একর জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে একাধিক প্রভাবশালী ধণাঢ্য শিল্প মালিক, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তাসহ বিভিন্নজন। পাউবোর সর্বশেষ তালিকা অনুসারে ওই ভূ-সম্পদের অবৈধ মোট দখলদার ৩ হাজার ৭শ ৭৪ জন। 

আজ ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা অভিযান চলে। এ সময়ে উত্তরার আবুদল্লাহপুর মৌজার আবদুল্লাহপুর রেলওয়ে গেট থেকে পশ্চিম দিকে ঢাকা-ময়মনসিং মহাসড়ক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধের দু’পাশে পাউবোর জায়গা দখলমুক্ত করা হয়। 

উপ-সককারী প্রকৌশলী খন্দকার মিজানুর রহমান শেলী কালের কণ্ঠকে জানান,ওই এলাকায় ৩৫০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ করা স্থাপনার মধ্যে আছে সিবিএ নেতাদের টাকা দিয়ে দখলে নেয়া হীরামনের ভাড়া দেয়া সব দোকান, মোহম্মাদ আলী বাবুর বিপনী বিতান, গরুর খামার। আওয়ামী লীগ নেতা কুতুবউদ্দিনের চালের গুদাম, মিষ্টির দোকান, তিনি অবশ্য উচ্ছেদের আগাম বার্তা পেয়ে সোমবারই তার দোকান সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও আছে জাতীয় পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন বাবুলের দোকান, তার ছেলে উত্তরা পূর্ব থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসআই টুটুলের দখল করা দোকান। যুবলীগ নেতা জাকির হোসেনের অবৈধ দখলে থাকা একাধিক দোকান। আওয়ামী ঘরানার লোক হিসেবে পরিচিত সাইফুলের ২৮টি দোকান নিয়ে করা আবদুল্লাহপুর মার্কেট। কাল সকাল থেকে পূনরায় শুরু হচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা