kalerkantho

যে কারণে ফেরত খালেদার জামিন আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যে কারণে ফেরত খালেদার জামিন আবেদন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা জামিনের আবেদন ফেরত নিয়েছেন তার আইনজীবীরা। বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মোবিনের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চে বুধবার শুনানির পর আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন ফেরত দেন। আইনজীবিদের বিষয়টি নিষ্পত্তিতে আপিল বিভাগে যেতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সগির হোসেন লিওন, ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান, সালমা সুলতানা প্রমুখ। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার, একেএম আমিনউদ্দিন মানিক, গিয়াসউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আইন কর্মকর্তা এবং দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার আইনজীবীর বক্তব্য শুনেই আদালত জামিনের আবেদন ফেরত দেন।

হাইকোর্ট গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজ করে রায় দেন। এ অবস্থায় অসুস্থতার যুক্তি দেখিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আবারো জামিন আবেদন করা হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ওই আদালত খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহন করেন। মঙ্গলবারের কার্যতালিকার ৩৭৪ নম্বরে ছিল আবেদনটি। তবে সকালেই খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা বিষয়টি আদালতের নজরে আনলে আদালত বেলা একটার সময় শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করে দেন।

বেলা একটার সময় খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন উপস্থাপন করেন জয়নুল আবেদীন। তিনি আদালতে বলেন, 'খালেদা জিয়া ৭৫ বছরের একজন নারী। তিনি খুবই অসুস্থ। দিনদিন তার অবস্থা খারাপ হচ্ছে। তিনি যখন কারাগারে যান তখন হেটে হেটে গেছেন। আর এখন হুইল চেয়ারে চলাফেরা করতে হচ্ছে।' এ সময় আদালত বলেন, 'এ কথাতো আগেও বলেছেন। নতুন কিছুতো দেখছি না।'

জয়নুল আবেদীন বলেন, 'আমাদেরকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়না। তার আত্মীয়স্বজন দেখা করে আমাদের যতটুকু জানায় তার ভিত্তিতে এ আবেদন। আগের চেয়ে খালেদা জিয়ার শারীরীক অবস্থা খারাপের দিকে। তাই জামিনের আবেদন করেছি।'

আদালত বলেন, 'এর আগে সিনিয়র বেঞ্চ জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপনারাতো আপিল বিভাগে যেতে পারেন।'

জবাবে জয়নুল আবেদীন বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট রুলস-এ সিনিয়র বা জুনিয়র বেঞ্চ বলে কিছু নেই। আগে একটি বেঞ্চ খারিজ করেছে। আমরা নতুন যুক্তিতে নতুন করে আবেদন করেছি। এই আদালতের সেই আবেদনের ওপর আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তাছাড়া হাইকোর্টের রায়ে স্বাস্থ্যগত বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়নি।'
 
আদালত বলেন, 'নিম্ন আদালত ভুল করলে হাইকোর্টে আসার সুযোগ রয়েছে। আর হাইকোর্টে ভুল হলে আপিল বিভাগে যাবার সুযোগ রয়েছে। আপনাদের কথা আপিল বিভাগের কাছে বলুন। আমরা সিনিয়র বেঞ্চের সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারি না। তাছাড়া মনে রাখতে হবে, এটা অবকাশকালীন বেঞ্চ।'
 
এসময় জয়নুল আবেদীন বলেন, 'আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ বসতে দেরি আছে। ১৩ অক্টোবরের পর। এই দীর্ঘ সময়ে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে। তার জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে। উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। তার যে সাজা হয়েছে সেই সাজায় আরো আগেই জামিন দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হচ্ছে না।'
 
আদালত বলেন,'আপনাদের কোনো বক্তব্য থাকলে আপিল বিভাগের কাছে বলুন। আমরা শুনতে চাচ্ছি না।'

এসময় জয়নুল আবেদীন বলেন, 'তাহলে আবেদনটি ফেরত দিন।' এ পর্যায়ে আদালত আবেদন ফেরত দেন।

সুপ্রিম কোর্ট ও নিম্ন আদালত মিলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এখন ১৭টি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে দুটি মামলায় (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা) তার ১৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। এরমধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল আপিল বিভাগে বিচারাধীন। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের ৭ বছরের সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল হাইকোর্টে বিচারাধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা