kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ধামরাইয়ে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ : টাকায় মুক্তি মিলল ব্যবসায়ীর

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২২:০৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ধামরাইয়ে ডিবি পরিচয়ে অপহরণ : টাকায় মুক্তি মিলল ব্যবসায়ীর

ঢাকার ধামরাইয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে আবদুল মজিদ নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখিয়ে মারপিট করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। পরে  টাকা দেওয়ার পর  মুক্তি দেওয়া হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে। আবদুল মজিদ উপজেলা বারবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের উত্তরপাশে রাইস মিল ও মুদি ব্যবসায়ী। এ ছাড়া সোমবার সকালে এক স্কুলছাত্রকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে অপহরণ করা হয়েছে বলে স্কুলছাত্রের বাবার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে প্রতারক চক্র হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভূক্তভোগী আবদুল মজিদ জানান, রবিবার সাত সাড়ে এগারটার দিকে তার ভাড়া বাসায় যাচ্ছিলেন আবদুল মজিদ। এ সময় একটি সাদা রঙের হাইয়েচ মাক্রোবস থেকে তিন-চারজন নেমে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে ঢাকার দিকে চলে আসে। এরপর ইয়াবা বিক্রি করে বলে তাকে মারপিট করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাকে ক্রস ফায়ারের ভয় দেখানো হয়। এ অবস্থায় সারারাত তাকে বিভিন্ন স্থানে ঘুড়াতে থাকে। পরবর্তীতে মজিদ মোবাইল ফোনে তার বাড়ির মালিক শহিদুল ইসলামের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে অপহরণকারিদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠায় শহিদুল। এরপর মজিদকে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় সোমবার ভোর সোয়া চারটার দিকে ছেড়ে দেয়।

মজিদ আরো জানায়, ওই গাড়িতে কালামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরো চারজনকে অপহরণ করা হয়। তাদের সবার আগে আমাকে ছেড়ে দেয়। 

যে বিকাশ নম্বরে টাকা নেওয়া হয়েছে ওই নম্বরে সোমবার সকালে এ প্রতিবেদক ফোন দিলে অপরপ্রান্ত থেকে বলা হয় এটা কোথা থেকে বলা হচ্ছে। তখন ধামরাই থানার কথা হয়। পরে অপরপ্রান্ত থেকে ফোন দেওয়ার কারণটা জিজ্ঞেস করে এ প্রতিবেদককে। এরপর অপরপ্রান্ত থেকে উত্তর দেয় এটা আশুলিয়া। বিকাশ নম্বরটি ব্যক্তিগত না এজেন্ট-এ কথা জিজ্ঞেস করা হলে ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে কয়েকবার ফোন করা হলে আর রিসিভ করেনি।

এদিকে সোমবার সকাল নয়টার দিকে দন্ত চিকিৎসক জিয়া উদ্দিন সিকদারের মোবাইল ফোনে তার ছেলে মোনায়েম সিকদারের কণ্ঠস্বর অবিকল নকল করে বলতে থাকে, ‘আব্বু আব্বু আমাকে বাঁচাও বাঁচাও’। এরপর ফোনটি কেটে দেয়। পরে ওই মোবাইল ফোনে জিয়া সিকদারকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বলা হয় ‘আপনার ছেলে আমাদের কাছে আছে। তাকে পেতে চাইলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। না হলে তাকে মেরে ফেলা হবে’।

এ কথা শুনে মোবাইল ফোনে প্রায় আধা ঘণ্টা দেন-দরবার করে প্রতারকদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন জিয়া সিকদার। এরপর ওই প্রতারক চক্র আরো টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে জিয়া সিকদার থানার দারস্থ হন। পরে টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজে ফোন করে জানতে পারেন তার ছেলে স্কুলেই আছে তাকে অপহরণ করা হয়নি। মোনায়েম সিকদার ধামরাইয়ের বিজয়নগরের টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ও কলেজের নমব শ্রেণির ছাত্র।

জিয়া সিকদার বলেন, আমার ছেলের কণ্ঠ অবিকল নকল করে ওরা। ছেলের কান্না শুনের আমি আর ঠিক থাকতে পারিনি। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রতারক চক্রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে দেন-দরবার করে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠাই। পরে জানতে পারি ছেলে স্কুলেই আছে।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সাভার কার্যালয়ের ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবুল বাসার বলেন, তাদের কোনো টিম ধামরাই থানা এলাকাতে অভিযান পরিচালনা করেনি।

ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ডিবি পুলিশ পরিচয় দেওয়া টাকা পয়সা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রকে ধরতে ইতিমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। অচিরেই প্রতারক চক্রকে আটক করতে সক্ষম হবো।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা