kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আসামি বিভ্রাট : ছয় পুলিশ কর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বিশেষ প্রতিনিধি   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আসামি বিভ্রাট : ছয় পুলিশ কর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

এক আসামির পরিবর্তে আরেক আসামিকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় কিশোরগঞ্জের ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোর্শেদ জামানসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মিল্লাত হোসেন এই নির্দেশ দেন।

ভুল আসামিকে গ্রেপ্তার করায় কেন ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জবাব দিতে হবে।

অপর পাঁচ পুলিশ সদস্য হলেন পরোয়ানা তামিলকারী অফিসার এসআই শামছুল হাবীব, এসআই ফারুক আহমেদ, তিন এএসআই আব্দুল হালিম, উজ্জ্বল ও আজিজুল।

অন্যদিকে ভুল আসামি জামসু মিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দেন আদালত। কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার উদিয়ার পাড়ার (স্কুলপাড়া) সিরাজুল হকের ছেলে মো. জামসু মিয়াকে গত ৮ আগস্ট ইটনা থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২০১৫ সালের ১১ জুন জনৈক মানহুরা খাতুন তার স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে মো. জামসু মিয়া সাগরের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। এই মামলার আসামি গত বছরের মার্চ থেকে পলাতক হন। পলাতক থাকা অবস্থায় মামলার রায় হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আসামির অনুপস্থিতিতে এক বছর ৩ মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হয়। 

আসামির নাম ও পিতার নামের মিল থাকায় ইটনা থানা পুলিশ জামসু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠায়। পরে জামসু মিয়ার স্বজনরা আইনজীবী নিয়োগ করে ঢাকার আদালতকে জানান যে, এই জামসু মিয়ার মানহুরা খাতুন নামে কোনো স্ত্রী নেই। কখনো ছিল না। আদালত বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ইটনা থানার ওসিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর নির্দেশ দেন।

ওসি মোর্শেদ একটি প্রতিবেদন পাঠিয়ে আদালতকে জানান, মূল আসামি মো. জামসু মিয়া (সাগর), পিতা সিরাজ মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের সাজা পরোয়ানা পাওয়ার পর তা তামিলের জন্য এসআই শাসছুল হাবীবের নামে হাওলা করা হয়। গত ৮ আগস্ট এসআই ফারুক আহমেদ, তিন এএসআই আব্দুল হালিম, উজ্জ্বল ও আজিজুল বর্তমানে গ্রেপ্তার জামসু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তবে এই জামসু মিয়া ঢাকার কোনো মামলার আসামি নন। তিনি ভুল স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা চেয়ে গ্রেপ্তার জামসুকে মুক্তি দেওয়ার প্রার্থনা করেন।

আজ জামসু মিয়ার আইনজীবী তানজির সিদ্দিকী রিয়াদ আদালতে আবেদন করে জামসু মিয়ার মুক্তি চান। একই সঙ্গে ৩৩ দিন বিনাবিচারে কারাগারে রাখার জন্য দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানান।

শুনানির সময় জামসু মিয়ার ছেলে তুষার মিয়া, বোনজামাই কাঞ্চন মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার বাদী মানহুরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আদালতকে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি তার স্বামী নন। তার স্বামী মরিশাসে চলে গেছেন। পরে আদালত জামসু মিয়াকে মুক্তির নির্দেশ দিয়ে ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদেও বিরুদ্ধে কারণ দর্শানো নোটিশ দেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা