kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ

এরশাদ ছিলেন সফল রাষ্ট্রনায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:২৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এরশাদ ছিলেন সফল রাষ্ট্রনায়ক

সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদকে সফল রাষ্ট্রনায়ক ও নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবক উল্লেখ করে জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রবিবার চলতি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন মূলতবি করা হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে গৃহীত শোক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই সংসদ প্রস্তাব করছে যে, ‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুতে দেশ একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সফল রাষ্ট্রনায়ক এবং নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবককে হারালো। এ সংসদ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও বিদেহী আত্মার রুহের মাগফিরাত কামনা করছে। একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।’

শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, সাবেক নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাজাহান খান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, মো. ফখরুল ইমাম, কাজী ফিরোজ রশীদ, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আহসান আদিলুর রহমান, পীর ফজলুর রহমান, সালমা ইসলাম, নাজমা আখতার ও তরিকত ফেডারেশনের মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতক্রমে শোক প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে আবেগজড়িত কণ্ঠে বিরোধী দলের উপনেতা বেগম রওশন এরশাদ ব্যক্তি জীবনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ কোনো ভুল-ত্রুটি করলে তার জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, অসম্ভব জনপ্রিয়, বিনয়ী ও জনদরদী নেতা ছিলেন এইচ এম এরশাদ। একজন স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ অত্যন্ত কষ্টের, বেদনার। দেশের মানুষকে তিনি অসম্ভব ভালোবাসতেন, সত্যিকারের পল্লীবন্ধু ছিলেন। 

সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমীর হোসেন আমু বলেন, দোষে-গুণে মানুষ। এ মুহূর্তে তাঁকে (এরশাদ) নিয়ে কোন আলোচনা করতে চাই না। আমরা তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। 

সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, মানুষ মরণশীল, আমাদেরও একদিন চলে যেতে হবে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে ৭৩ সালে দেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু তাঁকে মেজর থেকে বিগ্রেডিয়ার পর্যন্ত পদোন্নতি দিয়েছেন। তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের সময় আমাদের মধ্যে মত-পথের পার্থক্য ছিল। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি (এরশাদ) অত্যন্ত বিনয়ী ও নরম হৃদয়ের সজ্জন মানুষ ছিলেন।

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এইচ এম এরশাদ অত্যন্ত মৃদুভাষী নেতা ছিলেন। নিজ জেলা রংপুরের প্রতি তাঁর মমত্ববোধ দেখেছি স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে। বিরোধী দলের নেতা থাকাকালীন সময়েও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে অসম্ভব শ্রদ্ধা করতেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ক্ষমতায় থাকতে খুনী জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এইচ এম এরশাদও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করেছেন, ঘৃণীত খুনী কর্ণেল ফারুককে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছিলেন। 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের ’অসম্ভব জনপ্রিয় নেতা’ উল্লেখ করে বলেন, ২৭ বছর রাজনীতিতে ছিলেন এইচ এম এরশাদ। গণতন্ত্র রক্ষা ও বিকাশে তিনি কাজ করেছেন। গনতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়েছেন। তার পুরো শাসনকাল আমরা দু’ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথমত- ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সালে সামরিক শাসনে দেশ পরিচালনা করেছেন। দ্বিতীয় ভাগে ১৯৮৬ থেকে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতা হস্তান্তর পর্যন্ত। তার শাসনভাগের প্রথম ভাগকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। দ্বিতীয় ভাগের বিষয়ে উচ্চ আদালত নেতিবাচক কোন মন্তব্য করেনি। তাঁর জীবদ্দশায় একটি সংসদ ছাড়া সব সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছেন। তিনি ছিলেন জননন্দিত রাজনীতিবিদ। সকল রাজনীতির সমীকরণে প্রধান নিয়ামকও ছিলেন তিনি। আসলে এইচ এম এরশাদ ছিলেন পল্লী বন্ধু।  

বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, এই সংসদেই দাঁড়িয়ে বিনয়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করতে পারেননি। কিন্তু রাষ্ট্রপতি হয়ে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত করেছেন। বিএনপির এমপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তাঁকে (এরশাদ) কখনোই জোর করে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধ্য করা হয়নি। গণতান্ত্রিক সরকারের বিরোধী দলের নেতা হিসেবে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। 

জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, দেশের মানুষের যে কোন দুঃসময়ে রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন এইচ এম এরশাদ প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে দুর্গত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সবসময় শ্রদ্ধা করতেন তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার করে উপজেলা পরিষদ করেছিলেন, জেলা বাড়িয়েছেন। দেশের মানুষ সস্তায় ঔষধ কিনে খাচ্ছেন তা এরশাদের প্রণীত ঔষুধ নীতির কারণেই। 

বিএনপির হারুনুর রশীদ বলেন, জন্ম হলেই মৃত্যু অনিবার্য। এইচ এম এরশাদ নির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে এইচ এম এরশাদ অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু অংশগ্রহণ না করা সত্তে¡ও তাঁকে (এরশাদ) নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছেন বলে তিনি উলে­খ করেন।

তরিকত ফেডারেশনের মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, দোষে-গুণেই মানুষ। সবারই ভুল হয়। 
বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস, নাশকতার সময় বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে সাড়া দিয়ে সংবিধান রক্ষায় পরবর্তী সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিরোধী দলের নেতা হয়েছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা