kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কার্যতালিকায় খালেদার জামিন আবেদন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় কার্যতালিকায় খালেদার জামিন আবেদন

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আবারো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন শুনানির জন্য দাখিল করা হয়েছে হাইকোর্টে।

বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিনের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) আবেদনটি গ্রহণ করে কার্যতালিকায় রাখার আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, আইনজীবী নিতাই রায় চৌধুরী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও ব্যারিস্টার মীর হেলাল।

ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, আমরা জামিন আবেদন দাখিল করেছি। এ সপ্তাহে শুনানি হবে বলে আশা করছি। যদি না হয়, আগামী সপ্তাহে কার্যতালিকায় আসবে ও শুনানি হবে। তিনি বলেন, আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করে বলেছেন, যেদিন পেন্ডিং আপিলের জামিন শুনানি আসবে, ওইদিন  কার্যতালিকায় থাকবে এটি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় খালেদা জিয়ার এ আবেদন দাখিল করা হয় বলে জানিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এর আগে, ৩১ জুলাই বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছরের দণ্ডের বিরুদ্ধে গত ৩০ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে অর্থদণ্ড স্থগিত ও সম্পত্তি জব্দের ওপর স্থিতাদেশ দিয়ে দুই মাসের মধ্যে ওই মামলার নথি তলব করা হয়। ২০ জুন বিচারিক আদালত থেকে মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করা হয়।

২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সাত নম্বর কক্ষে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫র বিচারক মো. আখতারুজ্জামান জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে, তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাজা হয়েছে মামলার অপর তিন আসামিরও।

দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিনজন হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এর মধ্যে, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছর কারাদণ্ড পেয়ে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। পরে, আপিলের পর হাইকোর্টে তা বেড়ে ১০ বছর হয়। হারিছ চৌধুরী পলাতক। অপর দুই আসামি মুন্না ও মনিরুল দীর্ঘদিন জামিনে থাকলেও সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণার পাশাপাশি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের টাকায় খালেদা জিয়ার নামে কাকরাইলে কেনা ৪২ কাঠা জমি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেন আদালত।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলাটি ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিচার শেষে গত বছর ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে সাত বছর কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালত খালেদা জিয়াকে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। পরে দুদকের আপিলে হাইকোর্ট গত বছর ৩০ অক্টোবর সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা