kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ফেরিঘাটে তিতাসের মৃত্যু : তদন্তে তিনজন দায়ী, সচিব 'নিদোর্ষ'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফেরিঘাটে তিতাসের মৃত্যু : তদন্তে তিনজন দায়ী, সচিব 'নিদোর্ষ'

মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে দেরিতে ফেরি ছাড়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা স্কুলছাত্র তিতাস ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় তিনজনের দোষ পেয়েছে ওই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমটি। তবে দেরিতে ফেরি ছাড়ায় যুগ্ম সচিবের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। ওই ঘটনা তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল হাসানের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্য উঠে এসেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পৌঁছেছে তদন্ত প্রতিবেদনটি। এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ফেরি বিলম্বে ছাড়ায় তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যুগ্ম সচিব সবুর মণ্ডল জানতেন না যে মুমূর্ষু রোগী অ্যাম্বুলেন্সে অপেক্ষা করছে, ওই তিনজন তাকে এ বিষয়ে জানাননি। সবুর মণ্ডলকে অভিযুক্ত করার যুক্তি সঙ্গত কারণ নেই বলে প্রতিবেদনে এসেছে।

ফেরি বিলম্বে ছাড়ায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন, ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া ও উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম।

তিতাসের স্বজনদের অভিযোগ, ভিআইপি আসার অপেক্ষায় প্রায় তিন ঘণ্টা ঘাটেই বসে ছিল ফেরিটি। তিন ঘণ্টা ধরে ফেরি বসে থাকায় আটকে পড়া অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিতাসের মৃত্যু হয়। 

তারপর সরকারের এটুআই প্রকল্পের যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। লিগ্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড পিপলস রাইটসের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জহির উদ্দিন, তিতাসের মৃত্যুতে তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৩১ জুলাই হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন এবং এর ধারাবাহিকতায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হতে যাচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুসারে, ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক সালাম হোসেন, প্রান্তিক সহকারী খোকন মিয়া ও উচ্চমান সহকারী ফিরোজ আলম লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীর অ্যাম্বুলেন্স পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে জানতেন। 

তার পরেও অ্যাম্বুলেন্সকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারে সহায়তা করেননি। ফলে ‘কুমিল্লা ফেরি’ নির্ধারিত সময়ের অনুমিত দুই ঘণ্টা পর ছেড়ে যায়। প্রতিবেদনে কয়েক দফা সুপারিশ রয়েছে। ঘাট থেকে ফেরি ছাড়া ও পৌঁছানোর সময় মাস্টারকে অবশ্যই স্থায়ী লগ বুক বা রেজিস্টারে সময় লিখে স্বাক্ষর করতে হবে। ফেরি ঘাটে ভিড়িয়ে কোনো ব্যক্তিবিশেষের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। 

এমনকি নীতিমালা অনুযায়ী ভিআইপি সুবিধা চেয়ে কেউ ফেরি পার হতে চাইলে, অবশ্যই তাকে তার সরকারি ভ্রমণ বিবরণী আগে থেকে ফেরি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর কথা। তবে জরুরি প্রয়োজনে আগে যোগাযোগ সাপেক্ষে ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়ম শিথিল করা যেতে পারে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বা গাড়ি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করে ফেরিঘাটে পারাপারের ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা