kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

রওশনকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করল একাংশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রওশনকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করল একাংশ

রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছে দলের একটি অংশ। আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টায় রাজধানীর গুলশানে রওশন এরশাদের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।

রওশন বর্তমানে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান। সংবাদ সম্মেলনে রওশন বলেন, 'এরশাদ সাহেব তিলতিল করে পার্টিটাকে কষ্ট করে গড়ে তুলেছেন। এখন সেই পার্টিটাকে ভালো করতে চাই।'

পুরনো যারা জাতীয় পার্টি থেকে ছেড়ে গেছেন, তাদের নতুন করে দলে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান রওশন। তিনি বলেন, 'মান-অভিমান ভুলে দেশ ও মানুষের স্বার্থে জাতীয় পার্টির পতাকাতলে আসুন। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে জাতীয় পার্টিকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।'

এ ব্যাপারে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করে অবস্থান জানাতে পারেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগেই ছোট ভাই জি এম কাদেরকে তাঁর উত্তরসূরি মনোননীত করে গিয়েছিলেন। এরশাদের মৃত্যুর পর দলের পক্ষ থেকে জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়েছে। দলের একটি অংশ অবশ্য এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। ওদিকে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা কে হবেন, সে বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সংগঠনটিতে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দিয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার বিকেলে একটি চিঠি দেওয়া হয় স্পিকারকে। এ খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে রওশন এরশাদ গতকাল বুধবার স্পিকারকে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন।

জাপায় জি এম কাদের ও রওশনের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। তবে তা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর। এরশাদের মৃত্যুর পর জি এম কাদের অবশ্য রওশনের বাসায় গিয়ে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন। দুজন একটি সমঝোতায়ও পৌঁছান। তবে রংপুর উপনির্বাচন ও বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের ইস্যুতে সেই সমঝোতা ভেস্তে গিয়ে বিরোধ আরো প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে।

জাপার চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রওশন এরশাদ প্রথম প্রশ্ন তোলেন গত ২৩ জুলাই, গণমাধ্যমে দেওয়া এক চিঠির মাধ্যমে। ওই সময় জি এম কাদের এটিকে উড়োচিঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর গত ৩১ আগস্ট এরশাদের চেহলাম অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছেলে সাদকে নিয়ে রংপুরে যান রওশন এরশাদ। ওই সময় কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রওশন বলেন, 'সম্মেলনেই সিদ্ধান্ত হবে জাপার চেয়ারম্যান কে।'

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে স্পিকারকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। কাজী ফিরোজ রশীদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলটি চিঠিটি পৌঁছে দেয়। একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির ২৫ জন সদস্যের মধ্যে ১৫ জন জি এম কাদেরের পক্ষে আছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ওই চিঠি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ রওশন গতকাল গুলশানে নিজের বাসায় অনুসারীদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, ফকরুল ইমাম, লিয়াকত হোসেন খোকা ও রওশন আরা মান্নান। পরে বিকেলে তিনি স্পিকারকে পাল্টা চিঠি দেন। রওশনের ওই চিঠি স্পিকারের দপ্তরে পৌঁছে দেন জাপার সংসদ সদস্য ফকরুল ইমাম। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রওশন আজ বৃহস্পতিবার গুলশানের বাসায় সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা