kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দেশ সংবিধান মতো চলছে না : কূটনীতিকদের ড. কামাল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:৩৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশ সংবিধান মতো চলছে না : কূটনীতিকদের ড. কামাল

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের গুলশানের বাসায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে শেষ হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংবিধান প্রণেতা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী।

কূটনীতিকদের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার, ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত, কানাডার উপ-রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকসূত্রে জানা যায়, শুরুতেই রবার্ট মিলার এবং অ্যালিসন ব্লেইক জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের কাছে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান। পাশাপাশি তারা এও জানতে চান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা এখন কী করবেন বা কী করতে চান? এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তাদের চাওয়াটা কী?

এ সময় ড. কামাল হোসেন বিদেশি কূটনীতিকের বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনারা অবগত আছেন। নতুন করে কিছু বলার নেই। আপনারা জানেন, বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী চলছে না। যে লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য থেকে সরকার সরে গেছে। রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের হাতে নেই। যে সরকার দেশ চালাচ্ছে, সেটা জনগণের ভোটে প্রতিষ্ঠিত না। একটা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান পার্লামেন্ট গঠন করা হয়েছে।

ড. কামালের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রবার্ট মিলার বলেন, আপনারা তো সেই পার্লামেন্টে গেছেন। এখন কী বুঝছেন?

জবাবে ড. কামাল বলেন, এই সংসদকে তো আমরা সংসদই মনে করি না। তারপরও যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সংসদে গেছেন গণতন্ত্র চর্চার ন্যূনতম সুযোগটুকু কাজে লাগাতে। তারা সেখানে যতটুকু সুযোগ পাচ্ছেন কথা বলছেন। কিন্তু এ অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন। আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে এ সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। দ্রুত একটা নির্বাচন আয়োজন করার।

সূত্র মতে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কূটনীতিকদের বলেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মী সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। দেশের স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়ার মুক্তি অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই, যত দ্রুত সম্ভব নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে থেকেই এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ সময় ড. কামাল হোসেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের পাশাপাশি আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ড. মঈন খান বিভিন্ন পয়েন্টে কথা বলেন। রবার্ট মিলার ও অ্যালিসন ব্লেইক তাদের সবার কথা শোনেন। তবে তারা কোনো মতামত জানাননি।

এ প্রসঙ্গে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমরা কূটনীতিকদের বলেছি, দেশে গণতন্ত্র এখন শূন্যের কোটায়। ভোট ডাকাতির সংসদ গঠনের মধ্যে দিয়ে যতো রকমের অনিয়ম সবই হচ্ছে। একটা লুটপাটের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ অবস্থায় একটা দেশ চলতে পারে না। এর থেকে মুক্ত হতে হলে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ স ম আব্দুর রব বলেন, মঈন খানের বাসায় চায়ের আড্ডায় এসেছিলাম। বর্তমান রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা