kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জাবি প্রশাসন ভবন অবরোধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি    

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৩:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাবি প্রশাসন ভবন অবরোধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও মহাপরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসসহ তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন অবরোধ করেছেন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারী বিএনপি, বাম ও আওয়ামীপন্থী (একাংশ) কর্মসূচিতে অংশ নেন। ফলে আজ মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সারাদিন অবরোধের মুখে কোনো ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়নি।

'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর'র ব্যানারে সকাল সাড়ে ৭টায়  বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ও পুরনো প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচি চলাকালে ভবন দুটির কোনো ফটকই খুলতে দেননি তাঁরা। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে প্রবেশ করতে না পেরে বাইরে অপেক্ষা করছেন।

অবরোধকারীদের অন্য দুটি দাবি হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ঘিরে নির্মিতব্য তিনটি ১০ তলা হলের বিকল্প স্থান নির্বাচন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন।

আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রকল্প বাস্তবায়নে যে মাস্টারপ্ল্যান অনুসরণ করা হচ্ছে তা অপরিকল্পিত ও অস্বচ্ছ। আর এ অপরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্বিন্যাসসহ দুর্নীতির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়নের জন্য গত বছরের ২৩ অক্টোবর ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে সম্প্রতি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে সম্পন্ন করতে গত ৯ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে শাখা ছাত্রলীগকে এক কোটি টাকা বাটোয়ারা করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ মে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেন্ডার শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া নির্মাণাধীন  হলগুলোর জন্য নির্বাচিত স্থানগুলোতে ১১শ'র অধিক গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি গাছ কাটা পড়েছে।

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, 'তিনটি ছাত্রহলের জন্য এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে গাছ কম কাটা পড়বে। আর অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগির যে অভিযোগ এসেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা মিথ্যা দাবি করছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে কোনো উচ্চতর কমিটির মাধ্যমে এই অভিযোগের তদন্ত হতে হবে। সেটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কিংবা ইউজিসির তদন্ত হতে পারে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর মাস্টারপ্ল্যানের সমস্ত শর্ত পূরণ তা পুনঃবিন্যস্ত করতে হবে।'

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন,  'আমাদের অবরোধ আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। দাবি মেনে না নিলে টানা অবরোধ কর্মসূচির চিন্তা রয়েছে।'

এদিকে, অবরোধের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসন ভবনের সামন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। এ ছাড়া আজ দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন উপাচার্যপন্থি সিনেট সদস্যরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা