kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

১১১টি দেশ ভ্রমণকারী কাজী আসমা বিপাকে ইতালিতে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২০:৩৮ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



১১১টি দেশ ভ্রমণকারী কাজী আসমা বিপাকে ইতালিতে

কাজী আসমা আজমেরী। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাভেলার্সদের মধ্যে অন্যতম এক নাম। বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বিশ্বের ১১১টি দেশ। দীর্ঘ দশ বছর ধরে তিনি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, দেশের মানুষ সম্পর্কে জানাচ্ছেন। 

সম্প্রতি ইতালিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কাজী আসমা আজমেরী। তার ভিসার মেয়াদ কয়েকদিন পার হয়ে গিয়েছে। পাসপোর্ট চুরি হওয়ায় ঠিক সময়ে তিনি ইতালি থেকে বের হতে পারেননি।

১৬ আগস্ট ইতালির মিলান শহর থেকে কাজী আসমা আজমেরীর পাসপোর্ট চুরি হয়ে যায়। আসমা আজমেরী কালের কণ্ঠকে জানান, তিনি ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় নতুন পাসপোর্ট পেয়েছেন। তবে তার পাসপোর্ট চুরির ফলে তার ভিসা 'ওভার স্টে' হয়ে গেছে। ২২ তারিখ পর্যন্ত ছিলো তার ভিসার মেয়াদ। তিনি ইতালির ইমিগ্রেশনে যোগাযোগ করেছেন, কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে কোনো সাহায্য পাচ্ছেন না।

পাসপোর্ট চুরি হওয়ার আগ পর্যন্ত ১১০ দেশ ভ্রমণ করে কাজী আসমা আজমেরী গিয়েছিলেন কলম্বাসের শহর জেনেভার ইতালিতে। ইচ্ছা ছিলো মিলান থেকে যাবেন মোনাকোতে ১১১তম দেশ জয় করার উদ্দেশ্যে কিন্তু তার মোনাকোতে যাওয়া আর হলো না। পথিমধ্যে মেট্রোতে চুরি হয় তার পাসপোর্ট। 

তিনি জানান, রোম থেকে ২০ আগস্ট তার যাওয়ার কথা ছিলো ভারত। ১ সেপ্টেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় নতুন কাজে যাওয়ার কথা ছিলো তার।

আজমেরী কালের কণ্ঠকে বলেন, মিলানের ডমোতে ছয়শ বছর লেগেছে যে গির্জাটা বানাতে সেটা দেখে সেখান থেকে ম্যাট্রোতে  লাস্ট সাফার দেখতে যাচ্ছিলাম। ম্যাট্রোতে উঠার সময় এবং নামার সময় টিকিট দেখাতে হয়। আমি নামার সময় ব্যাগ থেকে টিকিট দেখাতে গেছি; তখন দেখি আমার পাসপোর্ট, সোনার নূপুর, কিছু টাকা ও অস্ট্রেলিয়ান ড্রাইভিং লাইসেন্স নাই।

স্থানীয় পুলিশের কাছে সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ দিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

কালের কণ্ঠকে আসমা আজমেরী বলেন, আমাকে সুইডিশ অ্যাম্বেসি ভিসা দিয়েছিলো। আমি ফের তাদের কাছে রিকোয়েস্ট করেছি। তারা যেন নতুন ফিসা দিয়ে আমাকে সাহায্য করে।

তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যেন আমাকে অবৈধ না করে। তাহলে আমি আর পাঁচ বছরের জন্য কোনো দেশে যেতে পারবো না।

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন আসমা আজমেরী।

 

আসমা আজমেরী ২০০৭ সালে প্রথম দেশ হিসেবে থাইল্যান্ড যাত্রা করেন। আর ২০১৮ সালে তুর্কমেনিস্তানের মাটিতে পা দিয়ে শততম দেশ সফরের আশা পূরণ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন তিনি।

আসমা আজমারী বলেন, আমি জনপ্রিয়তার জন্য নয়, দেশ ভ্রমণ করি নিজের শখ থেকে।

প্রথম দিকে তার ভ্রমণটা ছিলো শখে তবে এখন তিনি অনুভব করেন তিনি তার ভ্রমণের মাধ্যমে নিজ দেশকে বিশ্বের বুকে তুলে ধরতে পারছেন। সেটা তাকে বেশ আনন্দ দেয়।

ভ্রমণ যেন তার জীবনের একটি সংগ্রাম। তিনি প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করেছেন বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে কখনো বা সামাজিকভাবে কখনো বা পরিবারের দিক থেকে অথবা কখনো বা অর্থনৈতিক কখনো বা ভিসার দিক থেকে। 

মাঝে মাঝে তার দিন শুরু হয় দৌড়ের মধ্য দিয়ে। ভিসার জন্য দৌড়াতে হয় অ্যাম্বাসিতে। তিনি আর দশটা বিদেশিদের মতো ইচ্ছা করলেই অনেক জায়গায় যেতে পারেন না। যেখানে সুইডিশ পাসপোর্টে ১৭৯টি দেশ ভ্রমণ করা যায় সেখানে বাংলাদেশি পাসপোর্টে ২৬টি দেশ ভ্রমণ করা যায়। তারপরও তিনি কখনো থেমে থাকেননি। সংগ্রাম করেছেন অজানাকে দেখার উদ্দেশ্যে এবং সংগ্রাম করেছে নিজের স্বাধীনতার জন্য।

বিশ্ব ভ্রমণে আনন্দময় ঘটনার পাশাপাশি আসমা আজমেরী নিরানন্দময় ঘটনারও সম্মুখীন হয়েছেন। ২০০৯ সালে ভিয়েতনামে রিটার্ন টিকিট না থাকায় ২৩ ঘণ্টা জেলে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০১০ সালের ২৪ এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথম সপ্তাহে সাইপ্রাসে দু-দুবার জেল খেটেছেন তিনি। এছাড়া ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট কিউবায় তার ট্রাক্সির সঙ্গে স্কুটির সংঘর্ষও হয়েছে।

আসমা আজমেরী যেসব দেশ ভ্রমণ করেছেন- ২০০৯ সালে ভারত, নেপাল, ভুটান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং। ২০১০ সালে কম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, ব্রুনেই, চীন, ম্যাকাউ, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, সাইপ্রাস, তুরস্ক, মিশর, মরক্কো, সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০১১ সালে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, স্পেন, জার্মানি, পর্তুগাল, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া, মিয়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, জাপান।

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, নিউজিল্যান্ড, কুক দ্বীপ, টঙ্গা। ২০১৩ সালে নিউ ক্যালেডোনিয়া, তাহিতি, সলোমন দ্বীপ, নিউ, কিরিবাটি তাইওয়ান, ভানুয়াতু, মার্কিন যুক্তরাষ্ট। ২০১৪ সালে মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাডর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর। ২০১৫ সালে পোর্ট রিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, হাইতি, বেলিজ, জ্যামাইকা, বাহামা, আরুবা।

২০১৬ সালে ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো, কোসোভো, আবলানিয়া, ম্যাসেডোনিয়া, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, মোল্দাভিয়া, পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক, ইতালি, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, নরওয়ে, কুয়েত। ২০১৭ সালে কিউবা, সামোয়া, কাতার। ২০১৮ সালে ফিলিপাইন, মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, কানাডা, জর্জিয়া, বেলারুশ, আজারবাইজান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা