kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরো দুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৯:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন আরো দুজন

ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্ত আইনে দায়ের করা মামলায় আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। আজ রবিবার ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে অ্যাডভোকেট সবীর নন্দী দাশ ও অ্যাডভোকেট সহকারী গোবিন্দ্র চন্দ্র দেব সাক্ষ্য দেন।

দুজন সাক্ষীকেই ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন। পরে বিচারক আস-শামস জগলুল হোসেন আগামী ১১ সেপ্টেম্বও বাকী সাক্ষীদেও সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য দিন ধার্য করেন। মামলার বাদী ব্যারিস্টার ছৈয়দ সায়েদুল হক সুমন গত ২০ আগস্ট সাক্ষ্য দেওয়া শেষ করেন। এই নিয়ে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো।

সাক্ষীরা ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নির্মমভাবে আগুনে পোড়ানোর আগে থানায় গেলে তার বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ওসি মোয়াজ্জেম রাফির সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। যৌন নির্যাতনের একটি ছাত্রীকে যে সব প্রশ্ন করা হয় তা একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বেও মধ্যে পড়ে না। এ ছাড়া ওসি মোয়াজ্জেম মেয়েটির সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলেন। নিজে মোবাইলে ওই কথাবার্তা ভিডিও করেন। আবার তিনি তা প্রকাশ করেন। একটি মেয়েকে সমাজে হেয় করার জন্য ও তার মানহানির জন্য ওসি সেটা করেছেন।

এর গত ১৭ জুলাই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। গত ১৬ জুন হাইকোর্ট থেকে বের হওয়ার পর শাহবাগ এলাকা থেকে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ফেনীর সোনাগাজী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। সোনাগাজী থানা পুলিশ ওসিকে ১৭ জুন ট্রাইব্যুনালে হাজির করেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

এর আগে গত ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন এই ট্রাইব্যুনাল। আগের দিন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মোয়াজ্জেমের অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

গত ১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এই মামলা দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনাল পিবিআইকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় মামলাটি করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই সদর দপ্তরের সিনিয়র এএসপি রিমা সুলতানা তদন্ত প্রতিবেদনে বলেন, রাফিকে যৌন নিপীড়নের ঘটনার পর তাকে থানায় জেরা করার দৃশ্য নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা প্রচার করেন। ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে ওসি মোয়াজ্জেম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ৬ এপ্রিল সকালে রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুবৃত্তরা। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রাফি মারা যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা