kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

দুই মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৬:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই মামলায় খালেদার অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছাল

ভূয়া জন্মদিন পালন ও মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে মানহানির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নুর এই তারিখ ধার্য করেন।

রবিবার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা শুনানির জন্য পৃথক পৃথকভাবে সময়ের আবেদন করেন। খালেদা জিয়া অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় আইনজীবীরা সময়ের আবেদন করেন। এই দুটি মামলায় খালেদা জিয়া জামিনে আছেন। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এই মামলার শুনানি চলছে।

মুক্তিযুদ্ধকে কলঙ্কিত করার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটির অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ও ভূয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বওর দিন ধার্য করেন।

মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ করার অভিযোগে দায়ের মামলায় বলা হয়েছে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচিত হয়ে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি রাজাকার-আলবদর নেতাকর্মীদের মন্ত্রী-এমপি বানিয়ে তাদের বাড়ি ও গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকা তুলে দেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। আদালত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় পর প্রতিবেদন দেয় তেজগাঁও থানা। পরে গত বছর ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

অপরদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী তাকাকালে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৫ সালের ১৯ আগস্ট। তার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকীর দিন জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ-উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধু বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ণের জন্য তিনি জন্মদিন পালন করেন।

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মানহানির অভিযোগে মামলাটি করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। ওই মামলার আপিলে খালেদা জিয়ার দণ্ড বাড়িয়ে দশ বছর করেছেন হাইকোর্ট। এরপর জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলায়ও খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা