kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে 'এডিস এলবোপিক্টাস' মশা!

নিয়ন্ত্রণে সাতক্ষীরার পদক্ষেপ অনুকরণীয়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ আগস্ট, ২০১৯ ১১:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছে 'এডিস এলবোপিক্টাস' মশা!

ছবি প্রতীকী

ডেঙ্গু রোগে প্রথম পর্যায়ে রাজধানী ঢাকাতে বহু মানুষকে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। তবে এরপর তা ক্রমে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায় ঢাকার বাইরেও। কিন্তু কিভাবে তা ঢাকার বাইরে ছড়িয়েছে এ বিষয়ে বেশ ধোঁয়াশার মধ্যে পড়ে যান বিজ্ঞানীরা। জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর সবচেয়ে উপযোগী সময় ধরা হয়। তবে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে দেশে।

খুব সাধারণভাবে বলা যায় এডিস মশাই এ রোগটি ছড়াচ্ছে সর্বত্র। কিন্তু এডিস মশা এ রোগটি ছড়ালেও ঢাকার সঙ্গে ঢাকার বাইরের পার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সাধারণ এডিস (এডিস এজিপ্টাই) মশা নয়, ঢাকার বাইরে গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর পেছনে এডিস এলবোপিক্টাস নামে একটি প্রজাতি দায়ী।

এডিস এলবোপিক্টাস ও এডিস এজিপ্টাই ডেঙ্গু রোগ ছড়ানোর সাথে এ দুই ধরনের মশা জড়িত। এদের মধ্যে এজিপ্টাই ঢাকা বা শহরাঞ্চলে বেশি থাকে। আর এর বাইরে গ্রামাঞ্চলে এডিস এলবোপিক্টাস বেশি দেখা যায়।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘এডিস এলবোপিক্টাস যেহেতু মহামারি আকারে রোগ ছড়াতে পারে, সেহেতু এডিস এলবোপিক্টাসই রোগ ছড়াচ্ছে বলে আমরা ধারণা করছি। তবে এখনো এর গবেষণালব্ধ তথ্য আমাদের কাছে নাই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সী অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের হিসাব বলছে, এ মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। আর এ পর্যন্ত এ রোগে ৫২টি মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।

এডিস এলবোপিক্টাস কোথায় জন্মায়?

কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানিয়েছেন, এ ধরনের মশা ঘরের ভেতরে নয় বরং বাইরে কামড়ায়। তিনি বলেন, এডিস এলবোপিক্টাস মশার কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ ধরনের মশা ঘরের ভেতরে না, বাইরে থাকে।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ মানুষই জানে না যে এডিস এলবোপিক্টাস কোথায় জন্মায়। এডিস এজিপ্টাইয়ের মতো এটি যে কোনো জায়গায় স্বচ্ছ পানি পেলেই বংশবৃদ্ধি করে না। এজন্য বিশেষ ধরনের পরিবেশের দরকার হয়।

তিনি বলেন, এডিস এলবোপিক্টাস যেখানে জন্মায় তার মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎস হচ্ছে গাছের কোটর। এছাড়া রয়েছে বাঁশঝাড়। মূলত বাঁশ কাটার পর সেখানে থেকে যাওয়া গোঁড়ায় যে পানি জমে সেখানে এলবোপিক্টাস মশা বেশি হয়।

এছাড়া কলাগাছের দুটো পাতার মাঝখানে যে পানি জমে, কচু গাছের দুটো পাতার মাঝখানে যে পানি জমে, সেখানেও এই এলবোপিক্টাস জন্মায়। এগুলোকে ন্যাচারাল কন্টেইনার বলা হয়।

এই মশা নিয়ন্ত্রণ করার উপায়, সাতক্ষীরার উদাহরণ

এলবোপিক্টাসের গতিবিধি ও বংশবৃদ্ধি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান কম। এ কারণে এ মশা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

এ বিষয়ে ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘এলবোপিক্টাসকে ম্যানেজ বা নিয়ন্ত্রণ করাটা কঠিন। তাই এর আক্রান্ত করার ক্ষমতা বেশি পেয়ে যায় তাহলে সেটা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যাবে।’

এলবোপিক্টাস নিয়ন্ত্রণ করতে হলে প্রকৃতিতে থাকা ন্যাচারাল কন্টেইনার বা পাত্রগুলোকে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতে বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, যেমন গাছের কোটর মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে, কলাগাছের পাতায় কোনা দিয়ে একটু কেটে দিলেই হয়। আর কচু গাছের বড় বড় ডগাগুলো ছেঁটে দিতে হবে।

সাতক্ষীরা জেলা এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট এগিয়ে গেছে। সেখানকার জেলা প্রশাসন, জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নসহ সমস্ত মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে ডেকে ওয়ার্কশপ করিয়েছে বলে জানান ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, সেখানে এডিস এজিপ্টাই এবং এডিস এলবোপিক্টাসের জন্ম এবং এগুলো নির্মূলের উপায় বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরার উদাহরণ যদি সবগুলো জেলা অনুসরণ করে তাহলে ডেঙ্গু নির্মূল অনেক বেশি সহজ হবে বলেও মনে করেন তিনি। সূত্র : বিবিসি বাংলা।



সাতদিনের সেরা